বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ওয়ানডেতে থাকছেন, টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ছেন নিগার গুলশানে আ’লীগের মিছিলের তথ্য ছিল, তবে সময়টা আন্দাজ করতে পারেনি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মানুষের গল্প, লোডশেডিং নিয়ে আলোচিত সিনেমা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা, সম্মতি ছিল বিসিবিরও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা চবি আলাওল হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি, কক্ষে তালা নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতিতে সফল হওয়ার প্রত্যয় ছাত্রদল সভাপতির মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিরল সতর্কতা, হুথি-সৌদি উত্তেজনা তুঙ্গে
  • জলবায়ু সংকট ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

    জলবায়ু সংকট ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জলবায়ু পরিবর্তন আজ মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক হুমকি। এর প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়—এটি ইতোমধ্যেই মানুষের স্বাস্থ্য, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। বায়ুদূষণ, তীব্র গরম, অনিয়মিত আবহাওয়া, নদীভাঙন এবং জলবায়ু উদ্বাস্তু বৃদ্ধির মতো সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।

    বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। ২০২৪ সালকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং উপকূলীয় দেশগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বাংলাদেশ এই ঝুঁকির অন্যতম প্রধান শিকার, যদিও বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে তার অবদান খুবই কম।

    শিল্পবিপ্লবের পর উন্নত দেশগুলোর লাগামহীন কার্বন নিঃসরণই আজকের সংকটের মূল কারণ। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশসহ নিম্নাঞ্চলীয় ও দ্বীপরাষ্ট্রগুলো। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, কৃষিজমি হ্রাস এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এখন নিয়মিত বাস্তবতা।

    দেশের অভ্যন্তরেও বন উজাড়, জলাভূমি ভরাট, নদীদূষণ এবং অপরিকল্পিত শিল্পায়ন পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। এর ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং দুর্যোগের মাত্রা বাড়ছে।

    এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মূল কৌশল হতে হবে অভিযোজন (Adaptation) ও ক্ষতি কমানো। উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এখন জরুরি।

    বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে (COP) বারবার অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তার আলোচনা হলেও বাস্তবে কার্বন নিঃসরণ কমানোর দৃশ্যমান অগ্রগতি খুবই সীমিত। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো এখনও ন্যায্য সমাধান থেকে বঞ্চিত।

    জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো—

    • জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো
    • মিথেনসহ ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ
    • নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ) সম্প্রসারণ
    • পরিবহন খাতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার
    • ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ
    • কার্বন ক্যাপচার ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহার

    বর্তমানে কিছু উন্নত প্রযুক্তি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণে কাজ করছে, তবে এগুলো এখনও ব্যয়বহুল ও সীমিত পরিসরে ব্যবহৃত।

    অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত পর্যায়েও ভূমিকা রাখা জরুরি—যেমন যানবাহনের ব্যবহার কমানো, গণপরিবহন ব্যবহার, মাংসের ব্যবহার হ্রাস এবং শক্তি সাশ্রয়ী জীবনযাপন।

    সবশেষে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উন্নত দেশগুলোর উপর কার্বন নিঃসরণ কমানোর বাস্তব চাপ সৃষ্টি করা এবং ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা। কারণ এ সংকট কোনো একক দেশের নয়—এটি পুরো পৃথিবীর অস্তিত্বের প্রশ্ন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন