বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ওয়ানডেতে থাকছেন, টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ছেন নিগার গুলশানে আ’লীগের মিছিলের তথ্য ছিল, তবে সময়টা আন্দাজ করতে পারেনি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মানুষের গল্প, লোডশেডিং নিয়ে আলোচিত সিনেমা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা, সম্মতি ছিল বিসিবিরও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা চবি আলাওল হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি, কক্ষে তালা নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতিতে সফল হওয়ার প্রত্যয় ছাত্রদল সভাপতির মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিরল সতর্কতা, হুথি-সৌদি উত্তেজনা তুঙ্গে
  • ইউটিউব মনিটাইজেশনে বড় পরিবর্তন, বাড়ছে ভিউ ও ওয়াচটাইমের শর্ত

    ইউটিউব মনিটাইজেশনে বড় পরিবর্তন, বাড়ছে ভিউ ও ওয়াচটাইমের শর্ত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ইউটিউব থেকে বিজ্ঞাপন ও প্রিমিয়াম আয়ের ক্ষেত্রে নতুন নির্মাতাদের জন্য আরও কঠিন হচ্ছে মনিটাইজেশনের শর্ত। আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্ধারিত কিছু ক্ষেত্রে আগের তুলনায় দ্বিগুণ ওয়াচটাইম বা শর্টস ভিউ প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে শর্টস নির্মাতাদের আয় ধরে রাখতে নিয়মিত ভিউ বজায় রাখার চাপও বাড়বে।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করতে চাইলে কোনো চ্যানেলকে গত ১২ মাসে অন্তত ৮ হাজার ঘণ্টা যোগ্য ভিডিও ওয়াচটাইম অর্জন করতে হবে। বিকল্প হিসেবে গত ৯০ দিনে ২ কোটি যোগ্য শর্টস ভিউ থাকতে হবে। পাশাপাশি চ্যানেলে অন্তত ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকার শর্ত বহাল থাকছে।

    বর্তমানে বিজ্ঞাপন থেকে আয় করার জন্য গত এক বছরে ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচটাইম অথবা ৯০ দিনে ১ কোটি শর্টস ভিউ প্রয়োজন। অর্থাৎ নতুন নিয়ম কার্যকর হলে দুই ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় সীমা দ্বিগুণ হবে।

    শর্টস নির্মাতাদের জন্যও কঠিন শর্ত

    নতুন নিয়মের প্রভাব শুধু নতুন নির্মাতাদের ওপরই পড়বে না। ইতিমধ্যে মনিটাইজেশন চালু থাকা শর্টস নির্মাতাদেরও নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিউ ধরে রাখতে হবে।

    প্রতি মাসে শর্টস থেকে বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক আয় পেতে হলে ৯০ দিনের মধ্যে অন্তত ১ কোটি যোগ্য শর্টস ভিউ থাকতে হবে। কোনো চ্যানেলের ভিউ এই সীমার নিচে নেমে গেলে শর্টস থেকে আয় সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। তবে চ্যানেলের মনিটাইজেশন পুরোপুরি বাতিল হবে না। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত ভিউ অর্জন করতে পারলে শর্টস থেকে আয় আবার চালু হবে।

    ইউটিউব জানিয়েছে, যারা ইতিমধ্যে শর্টস থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করছেন, তাদের ওপর নতুন নিয়মের প্রভাব তুলনামূলক কম পড়তে পারে। তবে নতুন সীমার নিচে থাকা চ্যানেলের সংখ্যা প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

    শর্টসের জনপ্রিয়তা বাড়ছে

    ২০১৮ সালের পর মনিটাইজেশন ব্যবস্থায় এটি ইউটিউবের অন্যতম বড় পরিবর্তন। এর পেছনে শর্টসের দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠাও গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

    ইউটিউবের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্ল্যাটফর্মটিতে ২০ হাজার কোটির বেশি শর্টস দেখা হয়। ২০২৪ সালে দৈনিক শর্টস দেখার সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার কোটি। ফলে শর্টসনির্ভর নির্মাতাদের সংখ্যা ও আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসম্মত এবং নিয়মিত কনটেন্ট তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি।

    ছোট নির্মাতাদের জন্য থাকছে বিকল্প আয়ের সুযোগ

    তবে ছোট নির্মাতাদের জন্য সব দরজা বন্ধ করছে না ইউটিউব। ইউটিউব শপিং, ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ এবং নতুন জনপ্রিয় কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব সুবিধার অর্থের পরিমাণ ও বিস্তারিত নিয়ম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    মনিটাইজেশনের প্রাথমিক স্তরের শর্তও অপরিবর্তিত থাকছে। ৫০০ সাবস্ক্রাইবার, গত ৯০ দিনে অন্তত তিনটি প্রকাশিত ভিডিও এবং ৩ হাজার ঘণ্টা ওয়াচটাইম অথবা ৩০ লাখ শর্টস ভিউ থাকলে নির্মাতারা প্রাথমিক স্তরের কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারবেন। তবে এ স্তরে বিজ্ঞাপন বা ইউটিউব প্রিমিয়াম থেকে আয় করা যাবে না।

    প্রিমিয়াম লাইট থেকেও আয় করবেন নির্মাতারা

    ইউটিউব প্রিমিয়াম লাইট নিয়েও নতুন পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। যেসব দেশে ইউটিউব প্রিমিয়াম চালু রয়েছে, সেসব দেশে ধীরে ধীরে প্রিমিয়াম লাইট চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই সেবার সাবস্ক্রিপশন আয়ের একটি অংশ নির্মাতাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

    ইউটিউব জানিয়েছে, প্রিমিয়াম লাইট থেকে পাওয়া নিট সাবস্ক্রিপশন আয়ের ৬০ শতাংশ নির্মাতাদের জন্য নির্ধারিত তহবিলে যাবে। পূর্ণাঙ্গ ইউটিউব প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ। দর্শকেরা কোন নির্মাতার ভিডিও কতটা দেখছেন, তার ভিত্তিতে এই অর্থ বণ্টন করা হবে।

    নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ইউটিউব নির্মাতাদের জন্য নিয়মিত দর্শক ধরে রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে শর্টসনির্ভর চ্যানেলগুলোর আয় ধরে রাখতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ভিউ অর্জন করতে হবে। তবে একই সঙ্গে নতুন আয়ের পথ তৈরির উদ্যোগও নেওয়ায় ২০২৭ সাল ইউটিউব নির্মাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন