বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ওয়ানডেতে থাকছেন, টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ছেন নিগার গুলশানে আ’লীগের মিছিলের তথ্য ছিল, তবে সময়টা আন্দাজ করতে পারেনি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মানুষের গল্প, লোডশেডিং নিয়ে আলোচিত সিনেমা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা, সম্মতি ছিল বিসিবিরও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা চবি আলাওল হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি, কক্ষে তালা নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতিতে সফল হওয়ার প্রত্যয় ছাত্রদল সভাপতির মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিরল সতর্কতা, হুথি-সৌদি উত্তেজনা তুঙ্গে
  • প্রভু বদলালেও স্বভাব বদলায় না, দাসত্বের মানসিকতা চিনবেন যেভাবে

    প্রভু বদলালেও স্বভাব বদলায় না, দাসত্বের মানসিকতা চিনবেন যেভাবে
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মানুষের স্বাধীনতা শুধু নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় নয়, নিজের বিবেক ও মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যেও নিহিত। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যারা পরিস্থিতি বদলালেও নিজের অবস্থান বদলাতে পারেন না। একজনের প্রতি আনুগত্য শেষ হলে আরেকজনের প্রতি একইভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। মুখ বদলায়, সম্পর্ক বদলায়, ক্ষমতার কেন্দ্র বদলায়—কিন্তু মানসিকতা থেকে যায় আগের মতোই।

    ‘যাদের স্বভাব দাস হওয়া, তারা শুধু প্রভু বদলাবে, স্বভাব বদলাবে না’—এই কথাটিকে তাই আক্ষরিক অর্থে না দেখে মানুষের মানসিক প্রবণতা বোঝার একটি রূপক হিসেবে দেখা যায়। এটি এমন এক আচরণকে নির্দেশ করে, যেখানে ব্যক্তি নিজের বিচার-বুদ্ধির চেয়ে কোনো শক্তিশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অনুমোদনকে বেশি গুরুত্ব দেন।

    নিজের সিদ্ধান্তে আস্থা থাকে না

    দাসত্বের মানসিকতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নিজের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থার অভাব। কী করা উচিত, কোনটি ঠিক বা ভুল—এসব নির্ধারণে নিজের বিবেকের বদলে অন্য কারও মতামতের ওপর নির্ভরশীলতা দেখা যায়।

    এ ধরনের মানুষ নিজের অবস্থান তৈরি করার চেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির অবস্থান অনুসরণ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

    ক্ষমতাবানের কাছাকাছি থাকাই নিরাপত্তা

    কিছু মানুষ মনে করেন, শক্তিশালী বা ক্ষমতাবান কারও ছায়ায় থাকলে জীবনে সুবিধা পাওয়া সহজ। ফলে তারা ব্যক্তিগত নীতি বা মূল্যবোধের চেয়ে সম্পর্কের সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দেন।

    ক্ষমতার কেন্দ্র পরিবর্তিত হলে তারাও দ্রুত নতুন কেন্দ্রের দিকে ঝুঁকে পড়েন। বাইরে থেকে এটিকে মত পরিবর্তন মনে হলেও অনেক সময় এর পেছনে থাকে সুবিধা হারানোর ভয়।

    নিজের বিবেকের চেয়ে প্রশংসা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে

    যখন কেউ সবসময় অন্যের প্রশংসা, স্বীকৃতি বা অনুমোদনের ওপর নির্ভর করেন, তখন ধীরে ধীরে নিজের বিচারক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।

    প্রশংসা পাওয়ার জন্য তিনি এমন কথাও বলতে পারেন, যার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে একমত নন। আবার একই কারণে অন্যের ভুল দেখেও প্রতিবাদ না করে নীরব থাকেন।

    অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভয় পান

    স্বাধীন মানসিকতার মানুষ সাধারণত ভুলকে ভুল বলতে পারেন, এমনকি ভুলটি কোনো ঘনিষ্ঠ বা প্রভাবশালী ব্যক্তি করলেও। কিন্তু পরনির্ভর মানসিকতার মানুষ সম্পর্ক বা সুবিধা হারানোর আশঙ্কায় অনেক সময় অন্যায় দেখেও চুপ থাকেন।

    এভাবে দীর্ঘদিন নীরব থাকতে থাকতে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করাটাই স্বাভাবিক আচরণে পরিণত হতে পারে।

    মত নয়, ব্যক্তির প্রতি আনুগত্য

    কোনো আদর্শ, নীতি বা যুক্তির প্রতি আনুগত্য আর কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্ধ আনুগত্য এক বিষয় নয়।

    ব্যক্তিকেন্দ্রিক আনুগত্যের ক্ষেত্রে যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে ‘কে বলেছে’ সেটিই বড় হয়ে ওঠে। নিজের পছন্দের ব্যক্তি কিছু বললে তা সঠিক, আর অপছন্দের ব্যক্তি একই কথা বললে তা ভুল—এমন মানসিকতা তৈরি হতে পারে।

    পরিস্থিতি বদলালেই অবস্থান বদলে যায়

    আজ যে ব্যক্তির প্রশংসা করছেন, কাল তার বিরোধিতা করছেন; আবার নতুন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছাকাছি গিয়ে তার প্রশংসায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন—এমন আচরণ কখনো কখনো ব্যক্তির মূল্যবোধের অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।

    তবে মত পরিবর্তন নিজেই খারাপ কিছু নয়। নতুন তথ্য, যুক্তি বা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মত বদলানো স্বাভাবিক। সমস্যা তখনই, যখন পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হয় ব্যক্তিগত লাভ বা শক্তিশালী কারও প্রতি আনুগত্য।

    স্বাধীনতা মানে কারও বিরোধিতা করা নয়

    স্বাধীন মানসিকতার অর্থ সবার বিরোধিতা করা নয়। বরং নিজের বিবেক দিয়ে বিচার করে ভালোকে ভালো এবং ভুলকে ভুল বলতে পারাই প্রকৃত স্বাধীনতার লক্ষণ।

    কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভালো কাজের প্রশংসা করা যেমন স্বাভাবিক, তেমনি ভুল হলে যুক্তিসংগত সমালোচনাও করা দরকার। এতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে নীতি ও সত্য বড় হয়ে ওঠে।

    কীভাবে বদলানো যায় এই মানসিকতা?

    প্রথমেই নিজের কাছে কিছু প্রশ্ন করা প্রয়োজন—আমি কি নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারি? কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি আমার মতের বিপরীত কথা বললে আমি কি যুক্তি দিয়ে তা বিচার করি? কারও অনুমোদন না পেলেও কি নিজের সঠিক মনে হওয়া সিদ্ধান্তে থাকতে পারি?

    নিজের মত প্রকাশের অভ্যাস, তথ্য যাচাই, ভিন্নমত শোনার মানসিকতা এবং ভুল হলে তা স্বীকার করার সাহস ধীরে ধীরে আত্মনির্ভর মানসিকতা তৈরি করতে পারে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের মূল্যবোধকে কোনো ব্যক্তি বা ক্ষমতার সঙ্গে গুলিয়ে না ফেলা। কারণ মানুষ ও পরিস্থিতি বদলাতে পারে, কিন্তু নিজের নীতি ও বিবেকের জায়গাটি শক্ত থাকলে অন্যের ছায়ায় দাঁড়িয়ে জীবন কাটাতে হয় না।

    শেষ কথা

    মানুষ কারও কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে, নেতৃত্ব অনুসরণ করতে পারে কিংবা কোনো আদর্শের প্রতি অনুগত হতে পারে—এগুলো স্বাভাবিক। কিন্তু যখন নিজের বিবেক, যুক্তি ও আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে অন্যের ইচ্ছাই জীবনের একমাত্র নির্দেশনা হয়ে ওঠে, তখন স্বাধীন সত্তা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়। তাই প্রভু বদলানোর চেয়ে নিজের মানসিকতা বদলানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের ছায়ায় নিরাপত্তা খোঁজার বদলে নিজের বিচারবোধ, আত্মমর্যাদা ও নীতির ওপর দাঁড়াতে পারাই প্রকৃত স্বাধীনতা।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ