বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ওয়ানডেতে থাকছেন, টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ছেন নিগার গুলশানে আ’লীগের মিছিলের তথ্য ছিল, তবে সময়টা আন্দাজ করতে পারেনি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মানুষের গল্প, লোডশেডিং নিয়ে আলোচিত সিনেমা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা, সম্মতি ছিল বিসিবিরও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা চবি আলাওল হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি, কক্ষে তালা নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতিতে সফল হওয়ার প্রত্যয় ছাত্রদল সভাপতির মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিরল সতর্কতা, হুথি-সৌদি উত্তেজনা তুঙ্গে
  • শনির উত্তর মেরুর বিশাল ঝড়ের নতুন ছবি সামনে

    শনির উত্তর মেরুর বিশাল ঝড়ের নতুন ছবি সামনে
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সৌরজগতের ষষ্ঠ গ্রহ শনি (Saturn) বরাবরই তার বলয়ের জন্য মানুষের কাছে বিস্ময়ের কেন্দ্রবিন্দু। তবে সম্প্রতি নাসা (NASA) শনি গ্রহের উত্তর মেরুতে অবস্থিত সেই বিখ্যাত এবং রহস্যময় ‘ষড়ভুজাকার ঝড়ের’ (Hexagonal Storm) একটি অসাধারণ নতুন ছবি প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে পুনরায় কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। প্রাকৃতিকভাবে মহাকাশে এমন নিখুঁত জ্যামিতিক কাঠামোর অস্তিত্ব সত্যিই অবিশ্বাস্য।

    আয়তনে ৪টি পৃথিবীর সমান

    শনির এই ঝড়ের বিশালত্ব কল্পনা করাও কঠিন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ষড়ভুজাকার কাঠামোর প্রস্থ প্রায় ২০,০০০ মাইল বা ৩২,০০০ কিলোমিটার। সহজভাবে বলতে গেলে, এই একটি ঝড়ের ভেতরে আমাদের পৃথিবীর মতো প্রায় ৪টি গ্রহ অনায়াসেই জায়গা করে নিতে পারবে।

    ৪৫ বছর ধরে অপরিবর্তিত

    ১৯৮১ সালে প্রথমবার যখন ভয়েজার-১ এবং ভয়েজার-২ শনি গ্রহের পাশ দিয়ে উড়ে যায়, তখন এই অদ্ভুত আকৃতিটি বিজ্ঞানীদের নজরে আসে। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পর্যবেক্ষণের পর দেখা গেছে, এই ঝড়টি অত্যন্ত স্থিতিশীল। পৃথিবীর বুকে কোনো ঝড় কয়েক দিন বা সপ্তাহ স্থায়ী হলেও শনির এই মহাজাগতিক ঝড় কয়েক দশক ধরে একইভাবে ঘূর্ণায়মান।

    কেন এই অদ্ভুত ষড়ভুজ আকৃতি?

    বিজ্ঞানীদের মতে, এটি আসলে একটি শক্তিশালী ‘জেট স্ট্রিম’ বা দ্রুতগতির বায়ুপ্রবাহ। এর কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পৃথিবীতে সাধারণত বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাব ও ঘর্ষণের কারণে ঝড়গুলো গোলাকার হয়, কিন্তু শনির উত্তর মেরুতে বায়ুপ্রবাহের গতির তারতম্য এবং পরিবেশগত কারণে এটি নিখুঁত একটি হেক্সাগন বা ষড়ভুজ আকৃতি ধরে রেখেছে।

    ক্যাসিনির চোখে রহস্যভেদ

    পরবর্তীতে নাসার ‘ক্যাসিনি’ (Cassini) মহাকাশযান এই ঝড়ের খুব কাছ থেকে বিস্তারিত ছবি ও তথ্য পাঠায়। ক্যাসিনির পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এই ঝড়ের রঙেও পরিবর্তন আসে। এটি কেবল একটি সাধারণ ঝড় নয়, বরং সৌরজগতের সবচেয়ে অদ্ভুত এবং স্থায়ী আবহাওয়া রহস্যগুলোর একটি।

    মহাকাশের এই জ্যামিতিক বিস্ময় প্রমাণ করে যে, প্রকৃতির নিয়মগুলো ভিনগ্রহের পরিবেশে কতটা বৈচিত্র্যময় ও রহস্যময় হতে পারে।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ