বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ওয়ানডেতে থাকছেন, টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ছেন নিগার গুলশানে আ’লীগের মিছিলের তথ্য ছিল, তবে সময়টা আন্দাজ করতে পারেনি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মানুষের গল্প, লোডশেডিং নিয়ে আলোচিত সিনেমা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা, সম্মতি ছিল বিসিবিরও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা চবি আলাওল হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি, কক্ষে তালা নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতিতে সফল হওয়ার প্রত্যয় ছাত্রদল সভাপতির মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিরল সতর্কতা, হুথি-সৌদি উত্তেজনা তুঙ্গে
  • স্টোনহেঞ্জের আগের সভ্যতার প্রমাণ মিলল সমুদ্রের নিচে

    স্টোনহেঞ্জের আগের সভ্যতার প্রমাণ মিলল সমুদ্রের নিচে
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মিশরের পিরামিড কিংবা ইংল্যান্ডের স্টোনহেঞ্জ নির্মাণেরও বহু আগে, আজ থেকে প্রায় ৯ হাজার বছর পূর্বে নব্যপ্রস্তর যুগে গড়ে উঠেছিল এক সমৃদ্ধ মানববসতি। সময়ের আবর্তে যা আজ সমুদ্রের তলদেশে বিলীন। ইসরায়েলের উপকূলের নিচে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০ ফুট গভীরে ডুবুরিরা আবিষ্কার করেছেন এক রহস্যময় পাথরের বৃত্ত এবং প্রাচীন এক জনপদ, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আতলিত ইয়াম’ (Atlit Yam)। প্রথম দেখায় একে কল্পকাহিনির অংশ মনে হলেও, এটিই এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন নিমজ্জিত মানববসতির নিদর্শন।

    মিঠাপানির উৎস ও রহস্যময় পাথরের বৃত্ত

    গবেষকদের মতে, আতলিত ইয়াম একসময় সমুদ্রতীরবর্তী একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত কৃষিভিত্তিক গ্রাম ছিল। খননকার্যে আবিষ্কৃত বিশালাকার পাথর দিয়ে তৈরি বৃত্তটি মূলত একটি মিঠাপানির উৎস বা কূপকে ঘিরে স্থাপন করা হয়েছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, এটি হয়তো কেবল পানির উৎসই ছিল না, বরং প্রাচীন মানবসমাজে আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কোনো পবিত্র কেন্দ্র ছিল।

    কেন পানির নিচে তলিয়ে গেল এই জনপদ?

    সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলছিল, তা হলো—এত বড় একটি বসতি সমুদ্রের নিচে গেল কীভাবে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি কোনো আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা সুনামির কারণে ঘটেনি। শেষ বরফযুগের পর যখন পৃথিবীর হিমবাহগুলো গলতে শুরু করে, তখন ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা এই দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ুগত পরিবর্তনের ফলে উপকূলরেখা বদলে যায় এবং আতলিত ইয়ামের মতো জনপদ একসময় সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যায়। এই পরিবর্তন মানুষকে বাধ্য করে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে কিংবা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে।

    সমুদ্রের তলদেশে বছরের পর বছর বালির নিচে ঢাকা থাকায় এখানকার ঘরের ধ্বংসাবশেষ, কূপ, মানবকঙ্কাল, গৃহপালিত উদ্ভিদ ও প্রাণীর চিহ্নগুলো আশ্চর্যজনকভাবে সুরক্ষিত ছিল। এসব নিদর্শন প্রাচীন মানুষের জীবনযাপন ও সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে গবেষকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এখানকার মানবদেহাবশেষ পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা ‘যক্ষ্মা’ (Tuberculosis) রোগের অন্যতম প্রাচীন প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন। অর্থাৎ, হাজার হাজার বছর আগেও মানুষ এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হতো।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘আতলিত ইয়াম’ শুধু হারিয়ে যাওয়া একটি প্রাচীন গ্রাম নয়। এটি মূলত জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে মানবসভ্যতার গতিপথ বদলে দিয়েছে এবং মানুষকে স্থানান্তরে বাধ্য করেছে, তারই এক জীবন্ত ও ঐতিহাসিক প্রমাণ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ