বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

ঘুমেই লুকিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতার রহস্য

ঘুমেই লুকিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতার রহস্য
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সুস্বাস্থ্য এবং সতেজ মনের জন্য ঘুম অপরিহার্য, এ কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু আপনি কি জানেন, উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় ত্বকের সবচেয়ে বড় গোপন চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আপনার রাতের ঘুমেই? রূপচর্চার ভাষায় একে বলা হয় ‘বিউটি স্লিপ’।

 দামি ক্রিম বা ফেসিয়াল যা করতে পারে না, মাত্র ৭-৮ ঘণ্টার একটি গভীর ঘুম ত্বকের জন্য তার চেয়েও অলৌকিক পরিবর্তন এনে দিতে পারে।ঘুম কীভাবে আমাদের ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর ও তরুণ রাখে, আসুন জেনে নেওয়া যাক তার বৈজ্ঞানিক কারণগুলো।

১. কোলাজেন তৈরি ও ত্বকের পুনরুজ্জীবন (Cell Regeneration)সারাদিন রোদের আলো, ধুলাবালি এবং দূষণের কারণে আমাদের ত্বকের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা যখন ঘুমাই, তখন ত্বক নিজেকে মেরামত করার (Self-repair) কাজ শুরু করে। ঘুমের গভীর পর্যায়ে শরীরে ‘গ্রোথ হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। একই সাথে ত্বকে ‘কোলাজেন’ নামক প্রোটিনের উৎপাদন বাড়ে। এই কোলাজেনই ত্বককে ঝুলে পড়া থেকে রক্ষা করে এবং বলিরেখা (Wrinkles) পড়তে দেয় না।

২. ডার্ক সার্কেল ও চোখের ফোলাভাব মুক্তিরাত জাগলে চোখের নিচে কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল পড়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চোখের চারপাশের রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়ে যায়, যা চামড়ার ওপর দিয়ে কালো দেখায়। এ ছাড়া তরল জমBoundary বা ফ্লুইড রিটেনশনের কারণে চোখ ফুলে যায়। রাতে ঠিকঠাক ঘুমালে চোখের চারপাশের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং চোখ দেখায় প্রাণবন্ত।

৩. রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা (Glow)ঘুমন্ত অবস্থায় আমাদের পুরো শরীরে এবং বিশেষ করে ত্বকে রক্ত প্রবাহ (Blood flow) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ত্বকের কোষে কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছায়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যে একটি স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বলতা বা 'গ্লো' দেখা যায়, তা মূলত এই উন্নত রক্ত সঞ্চালনেরই ফল। অন্যদিকে ঘুম কম হলে ত্বককে ফ্যাকাশে ও নিস্তেজ দেখায়।

৪. স্ট্রেস হরমোন ও ব্রণের প্রকোপ হ্রাসপর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ‘কোর্টিসল’ নামের একটি স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ করে। এই হরমোন ত্বকের তৈলগ্রন্থিগুলোকে অতিরিক্ত সিবাম (তেল) তৈরি করতে বাধ্য করে। অতিরিক্ত তেলের কারণে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রণ বা অ্যাকনের সমস্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। একটি ভালো ঘুম কোর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে ত্বককে ব্রণমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

৫. স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টের কার্যকারিতা বৃদ্ধিআপনি রাতে ঘুমানোর আগে যে সিরাম, ময়েশ্চারাইজার বা নাইট ক্রিম ব্যবহার করেন, তা ঘুমের মধ্যেই সবচেয়ে ভালো কাজ করে। কারণ রাতে ত্বকের রক্ত প্রবাহ বেশি থাকায় স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টগুলো ত্বকের গভীরে সহজে শোষিত হতে পারে।

সুন্দর ত্বকের জন্য কিছু জরুরি টিপস:

৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমান: প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের অভ্যাস করুন।

বিছানায় যাওয়ার আগে মুখ পরিষ্কার করুন: সারাদিনের মেকআপ ও ময়লা নিয়ে কখনোই ঘুমানো উচিত নয়। ঘুমানোর আগে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান।

বালিশের কভার পরিবর্তন: সুতি বা সিল্কের নরম বালিশের কভার ব্যবহার করুন এবং তা নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন, যাতে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ না হয়।

শেষ কথা:

দামি প্রসাধনী সাময়িক সৌন্দর্য দিতে পারে, কিন্তু ত্বকের স্থায়ী ও প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতার জন্য ভেতর থেকে সুস্থ থাকা জরুরি।তাই আজ রাত থেকেই সব চিন্তা ও ডিজিটাল ডিভাইস দূরে সরিয়ে রূপচর্চার প্রথম ধাপ হিসেবে বেছে নিন একটি গভীর ও প্রশান্তির ঘুম!


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন