বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক

পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বাংলাদেশে পেপ্যাল, পেওনিয়ারসহ আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা চালুর ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নীতিমালা জারি করে দেশের ব্যাংকগুলোকে বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে আন্তসীমান্ত (ক্রস-বর্ডার) ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ চালুর অনুমতি দিয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে আন্তর্জাতিক সেবাভিত্তিক বাণিজ্য সহজ করা, ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী ব্যবস্থা

নতুন নীতিমালার আওতায় দেশের ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ও অন্যান্য বৈধ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে গ্রাহকদের সেবা দিতে পারবে।

এজন্য ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের নামে ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ) বা ডিজিটাল ওয়ালেট চালু করবে। তবে এসব অ্যাকাউন্ট সরাসরি পরিচালিত হবে না; প্রতিটি ডিভিএ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রিত একটি মাস্টার ডিভিএ বা সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

নিরাপত্তা ও তদারকির বাধ্যবাধকতা

লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকের অর্থ পৃথকভাবে সংরক্ষণ, অব্যবহৃত অর্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তা ফেরত বা সমন্বয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যেসব লেনদেন করা যাবে

নতুন ব্যবস্থায় ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্সাররা বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের অনুমোদিত লেনদেন করতে পারবেন। বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা, সরকারি প্রয়োজনে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার ছাড়াও অনলাইনে আন্তর্জাতিক কেনাকাটা, বিভিন্ন ফি পরিশোধ এবং প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ ব্যয়ের সুযোগ থাকবে।

এছাড়া সদস্যপদ ফি, তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত ব্যয়, ভিসা প্রসেসিং ফি এবং আন্তর্জাতিক হোটেল বুকিংয়ের অর্থও ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।

ফ্রিল্যান্সার ও রফতানিকারকদের সুবিধা

এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) এবং রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবধারীরা এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। ইআরকিউ হিসাবের আওতায় একটি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যবসায়িক ব্যয়ের জন্য ডিভিএ ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়া ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে অর্জিত অর্থ আরও সহজে দেশে আনতে পারবেন, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

বিদেশি পর্যটকদের জন্যও সুবিধা

বাংলাদেশ সফরে আসা বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকরাও এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্টে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন।

অনুমোদন ছাড়া সেবা নয়

এই সেবা চালুর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিচালন কাঠামোর বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

একই সঙ্গে অর্থপাচার প্রতিরোধ, গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত সব বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নিয়মিত লেনদেনের তথ্যও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রতিবেদন আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন