বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

সালমান শাহ-এর চিরশান্তির ঠিকানা

সালমান শাহ-এর চিরশান্তির ঠিকানা
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের এক অমর নায়ক ছিলেন সালমান শাহ। তার নামের সঙ্গে জড়ানো আছে এক সময়ে রূপকথার মতো ক্যারিয়ার, দর্শকপ্রিয়তা এবং এক আকস্মিক বিদায়ের বেদনা।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, মাত্র ২৭ বছর বয়সে আমাদের ছেড়ে যান এই কিংবদন্তি অভিনেতা। তার খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা শুধুমাত্র সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে সীমাবদ্ধ ছিল না; সাধারণ মানুষ থেকে তার সহকর্মী সবাইকে তিনি মুগ্ধ করেছেন তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং বিনোদনমূলক উপস্থিতির মাধ্যমে।

আজও সালমান শাহ-এর সিনেমা ও তারকা জীবনের স্মৃতি বাংলাদেশে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে জ্বলজ্বলে রয়ে গেছে। তিনি যে সময়ে ছিলেন, তার অবদান এবং সৃষ্টিশীলতা এখনও তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।

সালমান শাহর মৃত্যু আজও রয়ে গেছে নানা প্রশ্ন আর বিস্ময়ের ছায়ায়। কিন্তু তার জীবনের সেই স্বপ্নের গানে, হাসিতে আর প্রেমে ভরা অধ্যায়গুলো এখনো বাঙালির মনে অম্লান।

সালমান শাহ জন্মেছিলেন ১৯৭১ সালে। ঢাকাই সিনেমায় পা রেখে প্রথম সিনেমা দিয়েই বাংলাদেশের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। তার অভিনয়ের সহজাত আবেগ, অনন্য সৌন্দর্য আর নজরকাড়া স্টাইল তাকে দিয়েছিল এক ঝড়ের মতো জনপ্রিয়তা। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘বিক্ষোভ’, ‘সুজন সখি’, ‘তুমি আমার’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘প্রেম পিয়াসী’ ছবিগুলো দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক যুগের প্রতীক হয়ে আছেন তিনি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের অমর নায়ক সালমান শাহ। যে নামের সঙ্গে জড়ানো আছে এক এক সময়ের রূপকথার মতো ক্যারিয়ার
প্রতিদিন অনেক ভক্ত অনুরাগী সালমান শাহের কবর জিয়ারত করতে আসেন

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যু শোক আর বিস্ময়ের এক গভীর ছাপ ফেলেছিল চলচ্চিত্র ও সাধারণ মানুষের মনে। তার মৃত্যু কোণঠাসা করেছিল পুরো দেশের চলচ্চিত্র পরিবারকে।

সালমান শাহর সমাধি সিলেট শহরের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে। ভক্তরা প্রায়ই তার কবর জিয়ারত করতে যান। বিশেষ করে তার জন্ম ও মৃত্যুদিনে ভক্তদের আনাগোনা থাকে বেশি। যেখানে ঘুমিয়ে আছেন সালমান শাহ, সেই জায়গাটি শুধু একটি সমাধি নয় বরং এক প্রজন্মের ভালোবাসার ও স্মৃতির প্রতীক হয়ে আছে।

শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার চত্বর সারাদিন খোলা থাকে। তবে সেখানে যেতে চাইলে সকাল বা বিকেলের সময়টা ভালো। তখন ভিড় কম থাকে। কবরস্থানে গেলে নিরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। ভক্ত হিসেবে ফুল দিতে পারেন, দোয়া পড়তে পারেন। তবে মনে রাখবেন, জায়গাটি পবিত্র। তাই পোশাক ও আচরণে সংযত থাকা উচিত।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন