শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে: রিজভী

শেখ হাসিনাসহ গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকার বারবার তাগিদ দিলেও ভারত তা আমলে নিচ্ছে না।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘যিনি ১ হাজার ৪০০ তরুণ-কিশোর, ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকের রক্ত ঝরিয়েছেন, সেই শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। তাঁর সঙ্গে যারা গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে, গণহত্যা চালিয়েছে, তারাও সেখানে পালিয়ে রয়েছে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী তাদের বারবার ফেরত চাইলেও ভারত তাদের ফেরত দিচ্ছে না। অতীতে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এক সাবেক মেজরকে ভারত যদি শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করতে পারে, তাহলে শেখ হাসিনাকে কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, একজন স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে যথাযথ মর্যাদা না দিয়ে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাই তিনি ওই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে দাবি করেন রিজভী।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পরদিন ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ার কথা জানানো হয়। এটিকে তিনি ‘কূটকৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় সরকার মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারসহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রিজভী বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। এ সময় তিনি বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, গত ১৬ বছর দেশে লুণ্ঠন, অর্থপাচার, গুম ও গুপ্তহত্যা চলেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রিজভীর দাবি, বর্তমানে বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করলেও কোনো বিরোধী নেতা গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, একাত্তরের অর্জন মুছে ফেলার কোনো চেষ্টা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’ বানানোর চেষ্টা শহীদ মধুর আত্মত্যাগের প্রতি অপমান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।