বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

জামায়াতের সঙ্গে জোটে এনসিপি; নেতাদের পদত্যাগে স্বতন্ত্র রাজনীতির সংকট

জামায়াতের সঙ্গে জোটে এনসিপি; নেতাদের পদত্যাগে স্বতন্ত্র রাজনীতির সংকট
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং কর্নেল (অব.) অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) জামায়াতসহ আট দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, নির্বাচনে বৃহত্তর ঐক্য এবং সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার স্বার্থে তারা এই সমঝোতায় সম্মত হয়েছে। তবে জোটের এই সিদ্ধান্ত এনসিপির অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দলের নির্বাচনি কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, দলের প্রতিষ্ঠার সময় যে গণতান্ত্রিক স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল তা এখন বাস্তবায়নের পথে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তার মতে, দল জামায়াতের সঙ্গে জোটে গিয়ে স্বকীয়তা হারাচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক স্বপ্নকে ক্ষুণ্ণ করছে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবং তার স্বামী যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহও দলের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের অসন্তোষ প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন। ডা. জারা জানিয়েছেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক, কিন্তু দলগত কারণে অংশগ্রহণ করছেন না।

এছাড়া, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন এবং নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ প্রার্থী মনিরা শারমিনও জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নির্বাচনি কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, দল এখন নিজের স্বকীয়তা হারাচ্ছে এবং প্রাথমিক গণঅভ্যুত্থানের মূল্যায়ন ও প্রতিশ্রুতিকে পদক্ষেপের নামে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।

এই পদত্যাগগুলো এনসিপি অভ্যন্তরের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক নীতি ও যুবপ্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতার সংকটকে সামনে এনেছে। দল যে জোটবদ্ধ হয়েছে, তা নির্বাচনের জন্য বৃহত্তর ঐক্য সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে এটি এনসিপির রাজনৈতিক স্বকীয়তা ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবলকে প্রভাবিত করছে।

সংক্ষেপে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে এনসিপি নেতৃত্বের এই জোটবদ্ধতা রাজনৈতিক কৌশল এবং নীতিগত স্বকীয়তার মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব শুধু দলের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং নির্বাচনী পরিসরে রাজনৈতিক কর্মীদের মনোবল ও ভোটারদের প্রতিক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য স্বতন্ত্র পথ বজায় রাখা এখন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন