বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মৌলভীবাজারে পাহাড়-টিলা কেটে রিসোর্টের হিড়িক, অনুমোদনের হিসাব নেই ওয়ানডেতে থাকছেন, টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ছেন নিগার গুলশানে আ’লীগের মিছিলের তথ্য ছিল, তবে সময়টা আন্দাজ করতে পারেনি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মানুষের গল্প, লোডশেডিং নিয়ে আলোচিত সিনেমা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা, সম্মতি ছিল বিসিবিরও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা চবি আলাওল হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি, কক্ষে তালা নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতিতে সফল হওয়ার প্রত্যয় ছাত্রদল সভাপতির
  • ঢাকার ইতিহাসে স্থায়ী ছাপ: বাহাদুর শাহ পার্কের পানির ট্যাংক

    ঢাকার ইতিহাসে স্থায়ী ছাপ: বাহাদুর শাহ পার্কের পানির ট্যাংক
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আধুনিক যান্ত্রিকতার যুগে পুরান ঢাকার অলিগলিতে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক কালজয়ী সাক্ষী। ১৮৭৮ সালে স্থাপিত ঢাকার প্রথম ‘ওভারহেড পানির ট্যাংক’টি দেড়শ বছর পেরিয়েও তার স্থাপত্যশৈলীর আভিজাত্য নিয়ে পথচারীদের নজর কেড়ে চলেছে। পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের উত্তর পাশে অবস্থিত এই বিশালাকায় স্থাপনাটি কেবল একটি পানির আধার নয়, বরং ঢাকার নগর উন্নয়নের আদি ইতিহাসের এক অমূল্য স্মারক।

    স্থাপত্য ও নির্মাণশৈলী

    স্থাপনাটি লম্বায় প্রায় পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি বাড়ির সমান। লাল ইটের সুনিপুণ গাথুনি এবং স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলী এর প্রধান আকর্ষণ। দূর থেকে দেখলে এটিকে অনেকটা গম্বুজের মতো মনে হয়। বিশালাকায় দানবীয় এই কাঠামোটি প্রাচীন নির্মাণকৌশলের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা একে ‘বাহাদুর শাহ পার্ক পানির ট্যাংক’ নামেই চিনে থাকেন।

    ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

    ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৮৭৪ সালে ঢাকার নবাব স্যার খাজা আব্দুল গণি ঢাকা শহরের বাসিন্দাদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৮৭৮ সালে এই ওভারহেড ট্যাংকটি নির্মাণ করা হয়। ওই বছর ২৪ মে থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ট্যাংকটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছিল। সে সময় এটিই ছিল আধুনিক ঢাকা গড়ার পথে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক।

    বর্তমান অবস্থা

    বর্তমানে এই পানির ট্যাংকটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করলেও এর আশপাশের এলাকায় সময়ের ছাপ পড়েছে। প্রাচীন এই স্থাপনাটি এখনও তার লাল ইটের রঙ আর গম্ভীর কাঠামো নিয়ে পর্যটক এবং ইতিহাসপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। স্থপতিদের মতে, এই ধরণের ঐতিহাসিক অবকাঠামো সংরক্ষণ করা গেলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পুরনো ঢাকার আভিজাত্যকে তুলে ধরবে।

    বাহাদুর শাহ পার্কের এই পানির ট্যাংকটি কেবল ইট-সুড়কির কোনো নির্মাণ নয়; এটি একসময়ের তিলতিল করে গড়ে ওঠা ঢাকা শহরের আধুনিকায়নের প্রারম্ভিক দলিল। দেড়শ বছর আগে বিশুদ্ধ পানির যে বিপ্লব এই ট্যাংকটি শুরু করেছিল, আজ তা ঢাকার ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
    ঢাকা ও এর ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সম্পর্কে আরও জানতে আপনি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-এর পোর্টালে তথ্য অনুসন্ধান করতে পারেন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ