বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

ডিজিটাল দলিল নিবন্ধন: ই-রেজিস্ট্রেশন চালুর ঘোষণা

ডিজিটাল দলিল নিবন্ধন: ই-রেজিস্ট্রেশন চালুর ঘোষণা
ছবি- সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বাংলাদেশে দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এ নতুন সংশোধন আনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সরকার নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২6 জারি করেছে, যা দেশের ভূমি ও সম্পত্তি নিবন্ধন খাতে এক বড় সংস্কার উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই, অনলাইন সংরক্ষণ, দ্রুত নিবন্ধন সেবা এবং উন্নত ডেটা ব্যবস্থাপনা চালুর পথ আরও সুগম হলো। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষকে আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না, কমবে ভোগান্তি এবং বাড়বে নিবন্ধন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অধ্যাদেশটি বাস্তবায়নের পর দলিল জালিয়াতি রোধ, তথ্য সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং নিবন্ধন কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে। পাশাপাশি নিবন্ধন দপ্তরগুলোকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল অবকাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।

সরকারের ভাষ্যমতে, এটি শুধু আইন সংশোধন নয়—বরং ভূমি সেবায় ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তব অগ্রযাত্রার একটি শক্ত ভিত্তি, যা সম্পত্তি নিবন্ধনকে আরও নিরাপদ, সহজ ও জনবান্ধব করবে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়, সংসদ ভেঙে যাওয়ায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করেন।

সময়সীমা বৃদ্ধি: অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭ক-ছ, উপধারা (২)-এ উল্লিখিত দলিল নিবন্ধনের সময়সীমা ৩০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ধারা ২৬-এর অনুচ্ছেদ (খ)-এ উল্লিখিত সময়সীমা ৪ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস করা হয়েছে।

হেবা ও দান নিবন্ধনের আওতা: ধারা ৫২ক সংশোধনের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধনের আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিক্রয়ের পাশাপাশি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) অনুযায়ী হেবা ঘোষণা, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ব্যক্তিগত আইনের অধীনে দানের ঘোষণা নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘বিক্রেতা’ শব্দের সঙ্গে ‘অথবা দাতার’ শব্দ দুটি সংযোজন করা হয়েছে।

অনিয়মে কর্মকর্তার দায় নির্ধারণ: ধারা ৬৮ সংশোধন করে নতুন উপধারা (৩) সংযোজন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধন কর্মকর্তা যদি যথাযথ ফি, কর, সার্ভিস চার্জ বা শুল্ক আদায় না করে দলিল নিবন্ধন করেন, তবে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং অনাদায়ী অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে আদায় করা হবে।

৯০ দিনের মধ্যে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি

আপিল ও আবেদনের নিষ্পত্তির সময়সীমা: অধ্যাদেশে ধারা ৭২ সংশোধন করে উপধারা (১ক) সংযোজন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আপিল দাখিলের তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রার আপিল নিষ্পত্তি করবেন।

এ ছাড়া ধারা ৭৩ সংশোধন করে নতুন উপধারা (৩) যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আবেদন দাখিলের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে।

ই-রেজিস্ট্রেশন চালু: অধ্যাদেশে নতুন অংশ দ্বাদশ(ক) সংযোজন করে ধারা ৭৭(ক) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে দলিল উপস্থাপন, নিবন্ধনের জন্য গ্রহণ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল নিবন্ধন করা যাবে। এ সংক্রান্ত বিধি সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রণয়ন করবে।

ফি ও সার্ভিস চার্জ আদায়ের বিধান: অধ্যাদেশে ধারা ৮০ প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে, দলিল উপস্থাপনের সময়ই সব ফি, কর, সার্ভিস চার্জ ও শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। এসব অর্থ আদায়ের পদ্ধতি এবং সার্ভিস চার্জ ব্যবহারের বিষয়ে সরকার গেজেটের মাধ্যমে বিধি প্রণয়ন করবে।

 


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন