বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মৌলভীবাজারে পাহাড়-টিলা কেটে রিসোর্টের হিড়িক, অনুমোদনের হিসাব নেই ওয়ানডেতে থাকছেন, টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ছেন নিগার গুলশানে আ’লীগের মিছিলের তথ্য ছিল, তবে সময়টা আন্দাজ করতে পারেনি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মানুষের গল্প, লোডশেডিং নিয়ে আলোচিত সিনেমা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা, সম্মতি ছিল বিসিবিরও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা চবি আলাওল হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি, কক্ষে তালা নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতিতে সফল হওয়ার প্রত্যয় ছাত্রদল সভাপতির
  • পরিবানু: নবাব পরিবারের আলোকিত নারী

    পরিবানু: নবাব পরিবারের আলোকিত নারী
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঢাকার পুরান শহরের নবাব পরিবারের ইতিহাসে কিছু নারীর নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নবাবজাদি পরিবানু, যিনি নিজের যোগ্যতা, সাহস ও দূরদৃষ্টির জন্য ইতিহাসে আলাদা স্থান অর্জন করেছেন।

    ১৮৮৪ সালের ১ জুলাই ঢাকার আহসান মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন পরিবানু। পিতা নবাব খাজা আহসান উল্লাহ এবং মাতা কামরুন্নেসা বেগম। গৃহশিক্ষক ও পরিচারিকার তত্ত্বাবধানে তিনি আরবি, ফারসি ও ইংরেজি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত হন। সে সময়ের সমাজে নারীর জন্য এই ধরনের শিক্ষা ছিল যথেষ্ট অগ্রসর চিন্তার পরিচায়ক।

    পরিবানু ছিলেন দৃঢ়চেতা ও আত্মবিশ্বাসী। তিনি ঘোড়ায় চড়া শিখেছিলেন, যা তখনকার সময়ে নারীদের জন্য বিরল ছিল। পিতা নবাব আহসান উল্লাহ তাঁকে জমিদারির কাজকর্মেও হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ দিতেন এবং একসময় তাঁকে উত্তরাধিকারী করার পরিকল্পনাও করেছিলেন। তবে নবাবের আকস্মিক মৃত্যু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে দেনি।

    ১৯০০ সালে পরিবানুর বিয়ে হয় নবাব পরিবারের খাজা ভোলা মিয়ারের পুত্র খাজা বদরুদ্দিন-এর সঙ্গে। বিয়ের পর তিনি ঢাকার দিলখুশা এলাকায় বসবাস করতে থাকেন।

    ১৯১৯ সালে তিনি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে শাহবাগ বাগানবাড়ির দক্ষিণাংশ—প্রায় ৬০ বিঘা জমি—নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। এরপর বাগানটি প্রতি শনিবার ঢাকার সম্ভ্রান্ত নারীদের জন্য উন্মুক্ত করেন। এটি ছিল নারীদের সামাজিক মেলামেশা ও বিনোদনের এক নতুন দিগন্ত। পরবর্তীকালে এই এলাকা “পরিবাগ” নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

    শিক্ষাক্ষেত্রেও পরিবানুর অবদান অসাধারণ। ১৯২৪ সালে ঢাকায় কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে তিনি এবং তাঁর বোনেরা লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেন। এটি ছিল মেয়েদের শিক্ষার জন্য যুগান্তকারী উদ্যোগ।

    দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে ১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর, এবং তাঁকে ঢাকার বেগমবাজারে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

    নবাবজাদি পরিবানু শুধুমাত্র নবাব পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন না, তিনি ছিলেন ঢাকার ইতিহাসে এক সাহসী, প্রগতিশীল ও আলোকিত নারী, যাঁর পদচিহ্ন আজও শহরের ইতিহাসে স্পষ্ট।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ