বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

কৃষি ও খাদ্যে ১.১ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

কৃষি ও খাদ্যে ১.১ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন (১১০ কোটি) মার্কিন ডলার সহায়তার দুটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।

শনিবার (২৭ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষক, নিম্নআয়ের মানুষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এ পরিস্থিতিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই অর্থায়ন দেশের কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং জরুরি সেবা সচল রাখতে সহায়ক হবে।

খাদ্য নিরাপত্তায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার

‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এই অর্থ দিয়ে অক্টোবর ২০২৬ থেকে এপ্রিল ২০২৭ সময়কালে আমন ও বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে। বাংলাদেশে ব্যবহৃত সারের ৮৫ শতাংশের বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন সার আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যার অর্ধেক হবে ইউরিয়া। এর মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা ক্ষুদ্র কৃষকরা উপকৃত হবেন।

বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার সুলেইমান কুলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। তাই সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৭১৩ মিলিয়ন ডলার

অন্যদিকে, ‘কন্টিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৭১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত বিতরণ করা হবে।

এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা এবং জীবিকা পুনরুদ্ধারে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি ও নিরাপদ পানির মতো জরুরি সেবা চালু রাখতে এই তহবিল ব্যয় করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের অর্থ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের লিড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ কর্ডেরো বলেন, এই অর্থায়নের মাধ্যমে সংকটকালীন সময়ে দ্রুত তহবিল ব্যবহার এবং বিদ্যমান প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের সুযোগ তৈরি হবে। এতে মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মসংস্থানের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন