বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ঢাকায় ভ্যাপসা গরম, বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস মৌলভীবাজারে পাহাড়-টিলা কেটে রিসোর্টের হিড়িক, অনুমোদনের হিসাব নেই ওয়ানডেতে থাকছেন, টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ছেন নিগার গুলশানে আ’লীগের মিছিলের তথ্য ছিল, তবে সময়টা আন্দাজ করতে পারেনি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মানুষের গল্প, লোডশেডিং নিয়ে আলোচিত সিনেমা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা, সম্মতি ছিল বিসিবিরও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা চবি আলাওল হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি, কক্ষে তালা
  • যে হত্যাযজ্ঞে রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল বসনিয়ার মাটি

    যে হত্যাযজ্ঞে রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল বসনিয়ার মাটি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ১৯৯৫ সালের জুলাই। ইউরোপের বুকে সংঘটিত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যাগুলোর একটি। বসনিয়ার স্রেব্রেনিৎসায় কয়েক দিনের ব্যবধানে হত্যা করা হয় আট হাজারের বেশি নিরস্ত্র বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই ট্র্যাজেডির ক্ষত আজও বহন করছেন বেঁচে ফেরা মানুষগুলো।

    স্রেব্রেনিৎসার স্মৃতিসৌধে সারিবদ্ধ অসংখ্য সাদা সমাধিফলক আজও সেই হত্যাযজ্ঞের নীরব সাক্ষী। এখানে সমাহিত রয়েছেন বহু মানুষ, যাদের মরদেহ গণকবর থেকে উদ্ধার করে বছরের পর বছর পর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অনেক পরিবার আজও তাদের স্বজনদের সম্পূর্ণ দেহাবশেষ খুঁজে পায়নি।

    গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া মুহাম্মদ হুজদিক হুদজিচের পরিবারের ৭৬ জন সদস্য এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যাদের হাতে এই হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল, তাদের অনেকেই একসময় প্রতিবেশী, সহপাঠী কিংবা পরিচিত মানুষ ছিলেন।

    যেভাবে শুরু হয় সংকট

    সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যুগোস্লাভিয়ার ভাঙন শুরু হলে বলকান অঞ্চলে জাতিগত ও রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। ১৯৯২ সালে বসনিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে বসনিয়ান সার্ব বাহিনী, সার্বিয়ার সমর্থনে, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান শুরু করে।

    এরপর একের পর এক শহর সার্ব বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বসনীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং নারী নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা ঘটতে থাকে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই সংঘাতে প্রায় ২০ হাজারের বেশি নারী যৌন সহিংসতার শিকার হন।

    অবরুদ্ধ স্রেব্রেনিৎসা

    ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ স্রেব্রেনিৎসাকে 'নিরাপদ অঞ্চল' হিসেবে ঘোষণা করে। শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে স্থানীয়দের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়। সেই বিশ্বাসে বহু মানুষ সেখানে আশ্রয় নেন এবং স্থানীয় প্রতিরোধযোদ্ধারা অস্ত্র জমা দেন।

    কিন্তু বাস্তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অবরুদ্ধ শহরে খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সরবরাহের তীব্র সংকট দেখা দেয়। গোলাবর্ষণ ও হামলার মধ্যে হাজারো মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।

    ১১ জুলাইয়ের ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ

    ১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই বসনিয়ান সার্ব বাহিনী স্রেব্রেনিৎসা দখল করে নেয়। হাজারো মানুষ জাতিসংঘের ঘাঁটি পোটোচারিতে আশ্রয় নিতে ছুটে গেলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি।

    পরবর্তীতে নারী ও শিশুদের আলাদা করে দেওয়া হয় এবং হাজার হাজার পুরুষ ও কিশোরকে আটক করা হয়। বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ গণকবরে চাপা দেওয়া হয়।

    পরে আন্তর্জাতিক তদন্তে একাধিক গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বহু বছর ধরে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলতে থাকে, যা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।

    আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ফরমার যুগোস্লাভিয়া (ICTY) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) স্রেব্রেনিৎসার হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা (Genocide) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বসনিয়ান সার্ব নেতা রাদোভান কারাদজিচ ও সেনাপ্রধান রাতকো ম্লাদিচসহ একাধিক ব্যক্তিকে এ হত্যাযজ্ঞের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    স্রেব্রেনিৎসা আজ শুধু বসনিয়ার নয়, বরং মানবতার ইতিহাসে এক নির্মম স্মারক—যেখানে ঘৃণা, জাতিগত বিদ্বেষ এবং আন্তর্জাতিক ব্যর্থতার মূল্য দিতে হয়েছিল হাজারো নিরীহ মানুষকে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ