বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ঢাকায় ভ্যাপসা গরম, বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস মৌলভীবাজারে পাহাড়-টিলা কেটে রিসোর্টের হিড়িক, অনুমোদনের হিসাব নেই ওয়ানডেতে থাকছেন, টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ছেন নিগার গুলশানে আ’লীগের মিছিলের তথ্য ছিল, তবে সময়টা আন্দাজ করতে পারেনি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মানুষের গল্প, লোডশেডিং নিয়ে আলোচিত সিনেমা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা, সম্মতি ছিল বিসিবিরও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা চবি আলাওল হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি, কক্ষে তালা
  • দুঃখ-কষ্টে মৃত্যু চাওয়া কি জায়েজ? হাদিসে রয়েছে স্পষ্ট নির্দেশনা

    দুঃখ-কষ্টে মৃত্যু চাওয়া কি জায়েজ? হাদিসে রয়েছে স্পষ্ট নির্দেশনা
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মানুষের জীবন সব সময় এক রকম থাকে না। কখনো প্রিয়জন হারানোর বেদনা, কখনো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, আবার কখনো জীবিকা ও পারিবারিক অনিশ্চয়তা মানুষকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করে। এমন অনেক মুহূর্ত আসে, যখন কষ্টের ভারে কেউ কেউ বলে ওঠেন—‘হে আল্লাহ, আমাকে তুলে নিন’, ‘আমি আর বাঁচতে চাই না।’

    ইসলাম মানুষের এই মানসিক কষ্টকে অস্বীকার করে না। তবে দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট বা হতাশার কারণে জীবন শেষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে ইসলাম সমর্থন করে না। কারণ একজন মুমিন বিশ্বাস করেন, আল্লাহ যেভাবে পরীক্ষা নেন, তেমনি সেই পরীক্ষা থেকে উত্তরণের পথও তৈরি করে দেন।

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।” (সুরা আজ-যুমার: ৫৩)

    অন্য আয়াতে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একজন বিশ্বাসীর জীবনে কষ্ট আসতে পারে, কিন্তু সে আল্লাহর ওপর আস্থা হারায় না।

    কোরআনে আরও বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে।” (সুরা আশ-শারহ: ৫-৬)

    এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, কোনো কষ্টই স্থায়ী নয়। প্রতিটি পরীক্ষার পর আল্লাহ স্বস্তির পথ খুলে দেন। জীবনের দুঃখ-কষ্টও একজন মুমিনের জন্য ঈমানের পরীক্ষার অংশ।

    আল্লাহ তাআলা বলেন, মানুষ কি মনে করে, শুধু ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের পরীক্ষা করা হবে না? (সুরা আল-আনকাবূত: ২)

    আরেক আয়াতে এসেছে, ভয়, ক্ষুধা, সম্পদের ক্ষতি ও জীবনের বিভিন্ন বিপদের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাদের পরীক্ষা করেন। যারা ধৈর্য ধারণ করে, তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর রহমত ও হেদায়াত। (সুরা আল-বাকারা: ১৫৫)

    ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, আল্লাহ কারো ওপর তার সামর্থ্যের বাইরে কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।” (সুরা আল-বাকারা: ২৮৬)

    বিপদে মৃত্যু কামনা সম্পর্কে হাদিসের নির্দেশনা

    রাসুলুল্লাহ (সা.) দুনিয়ার কোনো বিপদ বা কষ্টের কারণে মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ করেছেন।

    তিনি বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন কোনো বিপদের কারণে মৃত্যু কামনা না করে। তবে যদি বলতেই হয়, তাহলে যেন বলে—হে আল্লাহ! যতদিন আমার জন্য জীবন কল্যাণকর, ততদিন আমাকে জীবিত রাখুন এবং যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হবে, তখন আমাকে মৃত্যু দিন।” (সহিহ বুখারি: ৫৬৭১)

    এই হাদিসের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, মানুষ বর্তমান পরিস্থিতি দেখলেও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানে না। যে কষ্ট আজ অসহনীয় মনে হচ্ছে, তা-ই হয়তো ভবিষ্যতে কল্যাণের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, মুমিনের প্রতিটি অবস্থাই কল্যাণকর। সে সুখ পেলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, আর দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য ধারণ করে—দুই অবস্থাই তার জন্য কল্যাণের কারণ হয়। (সহিহ মুসলিম: ২৯৯৯)

    আরেক হাদিসে এসেছে, মুমিনের ওপর কোনো ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, দুঃখ-কষ্ট এমনকি কাঁটা বিঁধলেও এর বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন। (সহিহ বুখারি: ৫৬৪১)

    কোন ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে?

    ইসলাম দুনিয়ার কষ্টের কারণে মৃত্যু কামনা নিষেধ করেছে। তবে কেউ যদি নিজের দ্বীন ও ঈমান নিয়ে বড় ধরনের ফিতনা বা বিপদের আশঙ্কা করেন, তখন বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।

    প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, হাদিসে নিষিদ্ধ মৃত্যু কামনা মূলত দুনিয়াবি কষ্টের কারণে মৃত্যু কামনাকে বোঝানো হয়েছে। তবে দ্বীনের ওপর ফিতনার আশঙ্কা থাকলে এর বিধান ভিন্ন হতে পারে। (ফাতহুল বারী: ১০/১৯১)

    ইমাম নববী (রহ.) বলেন, রোগ, দারিদ্র্য বা পার্থিব কষ্টের কারণে মৃত্যু কামনা করা অনুচিত। তবে দ্বীনের বিষয়ে ফিতনার আশঙ্কা থাকলে পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। (শারহু সহিহ মুসলিম)

    হতাশা নয়, আল্লাহর ওপর ভরসাই শক্তি

    ইসলামের শিক্ষা হলো—যত কঠিন সময়ই আসুক, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। একটি ছোট ভালো কাজ, তাওবা বা গোপনে করা কোনো দানও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে।

    তাই জীবনের কঠিন সময়ে মৃত্যু কামনা না করে ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত আলেম ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ