রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের জান্তার প্রধানকে মালয়েশিয়ায় আমন্ত্রণ

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন দ্রুত করতে দেশটির সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়ায় সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আনোয়ার ইব্রাহিম এ প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে ভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
এক পডকাস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি তাকে (মিন অং হ্লাইং) আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা বলতে চাই, আমরা বন্ধু হতে পারি, আমরা বাণিজ্য করতে পারি, আমরা মিয়ানমারকে গ্রহণ করতে পারি। তবে মিয়ানমারকে তাদের (রোহিঙ্গা শরণার্থী) ফিরিয়ে নিতে হবে।’
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করে কথা বলার চেয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা বেশি কার্যকর হতে পারে। তিনি প্রশ্ন করেন, রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব কে নেবে এবং তাদের কোথায় পাঠানো হবে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্বও দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমরা আসিয়ানকে অনুসরণ করে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রাখতে চাই না। তাহলে আমরা কার সঙ্গে আলোচনা করব?’
মিন অং হ্লাইং ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত এপ্রিলে তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হন। মালয়েশিয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে আসিয়ানভুক্ত কোনো দেশে এটি হবে তার পঞ্চম সফর। এর আগে তিনি লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম সফর করেছেন। এ ছাড়া চীন, ভারত ও রাশিয়াতেও সফর করেছেন তিনি।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের নেতাদের আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। দেশটির নির্বাচনকেও স্বীকৃতি দেয়নি আসিয়ান।
মিয়ানমারে চলমান সংঘাতে আনুমানিক এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন হিসাব রয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।
নির্যাতন ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া আশ্রয়ের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠেছে। দেশটি ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী না হলেও বর্তমানে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যাওয়া ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সেখানে অবস্থান করছে।
জুলাই মাসে আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত সরকার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এর আওতায় যোগ্য অন্তত ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমার নাগরিককে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে।