বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বরফ গলনে বদলাচ্ছে পৃথিবীর আকৃতি, মেরু উঠছে—বিষুবীয় ভূমি নামছে পশ্চিম তীরে প্রেস টিভির নারী সাংবাদিককে আটকের অভিযোগ গুলশান-বনানীর লেক দূষণ বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেবে সরকার হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৬ জ্বালানি সংকটে এখনো কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি: বিজিএমইএ উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করবে ইসি ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শান্তিপূর্ণ হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার ভারতে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ নেতা এম এ খালেক গ্রেপ্তার ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
  • ভারত কেন ইসরায়েলকে প্রশ্নাতীতভাবে সমর্থন করছে?

    ভারত কেন ইসরায়েলকে প্রশ্নাতীতভাবে সমর্থন করছে?
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন ও চলমান গণহত্যার চিত্র আজ বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ইসরায়েলকে প্রশ্নাতীতভাবে সমর্থন করা পশ্চিমা দেশগুলোও জনমতের চাপের কারণে অন্তত আংশিক সমালোচনা করতে শুরু করেছে। তবে ভারতের অবস্থান ব্যতিক্রম—এটি এখনও ইসরায়েলকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সমর্থন করছে। পার্সটুডে একটি বিশ্লেষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে ভারতের এই সমর্থনের পেছনের স্বার্থ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ভারতীয়রা এবং দেশটির চরম ডানপন্থি সরকার একেবারে অন্ধ সমর্থনের ভঙ্গিতে তেল আবিবের পাশে দাঁড়িয়ে আছে—যা বহু বিশ্লেষকের কাছে ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির এক নৈতিক বিপর্যয় হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

    গত এক দশকে ইসরায়েল ও ভারতের সামরিক সম্পর্ক অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাণিজ্য যেখানে দাঁড়িয়েছিল ৫৬০ কোটি ডলারে, বর্তমানে সেটি আরও বেড়েছে। ভারত এখন ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতা। উন্নতমানের ড্রোন, নজরদারি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র—সবই ভারত ইসরায়েল থেকে আমদানি করছে। এই অস্ত্রগুলোর অনেকগুলো ফিলিস্তিনের মাটিতে ‘পরীক্ষিত’ হয়ে থাকে। ফলে এসব প্রযুক্তি কেনার অর্থ দাঁড়ায়, ভারত সরাসরি ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ও গণহত্যার অর্থায়ন করছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মোদি সরকারের মুসলিমবিরোধী মনোভাবও ইসরায়েল সমর্থনের পেছনে অন্যতম কারণ। ভারতের শাসক দল বিজেপি মুসলিমদের প্রতি যে বৈরী অবস্থান দেখিয়ে আসছে, তা ইসরায়েলের ফিলিস্তিনিবিরোধী নীতির সাথে অদ্ভুতভাবে মিলে যায়। ফলে কেবল সামরিক বাণিজ্য নয়, মতাদর্শগত ঘনিষ্ঠতাও ভারতকে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত করেছে।

    গণতন্ত্রে দমননীতি

    গাজায় ৭ অক্টোবরের পরপরই মোদি সরকার প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে ইসরায়েলের প্রতি সংহতি জানায়। অথচ তখনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। পরবর্তীতে যখন গাজার ওপর নির্বিচারে হামলা চালানো হলো, তখনও ভারতীয় সরকার নীরব থেকেছে। শুধু তাই নয়, ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে যারা ভারতের ভেতরে প্রতিবাদ জানিয়েছে, সেই ছাত্র, শিক্ষক, অধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের দমন করতে রাষ্ট্রযন্ত্র সক্রিয় হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সমাবেশগুলো অনুমতি পায়নি, এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের এই কণ্ঠরোধের কৌশল ইসরায়েলি দমননীতির সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।

    ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে সরে যাওয়া

    একসময় ভারত ফিলিস্তিনি আন্দোলনের বড় সমর্থক ছিল। জাতিসংঘে ভারত বারবার ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং দখলদারবিরোধী অবস্থানকে নিজের নৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে। কিন্তু আজ ভারত সেই ইতিহাস ভুলে গিয়ে একেবারে বিপরীত পথে হাঁটছে। সমালোচকরা বলছেন, এটি শুধু ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা নয়, বরং দেশটির উপনিবেশবিরোধী ঐতিহ্যের সাথেও বিশ্বাসঘাতকতা।

    নাগরিক সমাজের প্রতিরোধ

    যদিও সরকার ইসরায়েলপন্থি অবস্থানে অনড়, ভারতীয় নাগরিক সমাজ চুপ নেই। দিল্লি থেকে কেরালা পর্যন্ত মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক, শিল্পী, আইনজীবী ও ছাত্ররা গাজার পক্ষে সোচ্চার। তবে সরকারী দমনপীড়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও সংবাদমাধ্যমের বিকৃতি তাদের কণ্ঠকে ক্রমাগত সংকুচিত করছে।

    পরিশেষে

    ভারত নিজেই ঔপনিবেশিক শাসনের শিকার হয়েছিল। তাই দেশটির উচিত ছিল দখলদারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানো। কিন্তু বাস্তবে মোদী সরকারের নীতি দাঁড়িয়েছে উল্টো পথে। সামরিক বাণিজ্য, মুসলিমবিরোধী রাজনীতি ও কৌশলগত স্বার্থের জালে আটকে গিয়ে ভারত অন্ধভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন করছে। এই অবস্থান ভারতের গণতান্ত্রিক আদর্শ, ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার এবং নৈতিক নেতৃত্বের দাবি- সবকিছুকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন