কুড়িয়ে পাওয়া টাকা নিয়ে প্রচলিত ধারণা: সত্য নাকি ভুল ব্যাখ্যা?

অনেকে মনে করেন, রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া টাকা বা জিনিস ব্যবহার করলে তিনগুণ ফেরত দিতে হয়। কিন্তু শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, এ ধারণার কোনো ভিত্তি কোরআন-হাদিসে নেই।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশে অনেকে বলেন, রাস্তায় কারও হারানো টাকা কুড়িয়ে পাওয়া গেলে সেটি দ্বিগুণ বা তিনগুণ দিয়ে দিতে হয়। অথচ এ বিষয়ে কোরআন-হাদিসে কিছুই বলা হয়নি। বরং ভয় দেখিয়ে মানুষকে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে, যা জায়েজ নয়।”
ছোট জিনিস কুড়িয়ে পেলে কী করবেন?
যদি কারও হারানো টাকা বা জিনিস সামান্য হয়, যেমন—দুই টাকা বা একটি কয়েন—তাহলে মালিক তা খুঁজবে না। এ ক্ষেত্রে গরীব হলে নিজেই ব্যবহার করা বা কোনো গরীবকে দিয়ে দেওয়া যায়।
বড় বা মূল্যবান জিনিস পেলে করণীয়
যদি হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যের কিছু পাওয়া যায়, তাহলে খুঁজে মালিককে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। বাজারে দোকানদারদের মাধ্যমে বা বিভিন্নভাবে ঘোষণা দিতে হবে। তবে মসজিদে ঘোষণা দেওয়া যাবে না।
দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও মালিককে না পাওয়া গেলে, সেটি কোনো গরীব ও অভাবী ব্যক্তিকে দান করতে হবে। আর যে ব্যক্তি টাকা হারিয়েছে, তার পক্ষ থেকেই সেই সওয়াব যাবে।
দায়িত্বশীল মানুষের করণীয়
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “কেউ যদি হারানো জিনিস তুলে নেয়, তার দায়িত্ব হবে মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা। কারণ আপনি না নিলে অন্য অসৎ কেউ তুলে নিয়ে হারাম কাজে ব্যবহার করতে পারে। তবে মালিক খুঁজে না পাওয়া গেলে তখন দান করা উত্তম।”
অতএব, রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস ব্যবহার করলে তিনগুণ ফেরত দিতে হয়—এমন কথা আসলে ভিত্তিহীন। ইসলামের দৃষ্টিতে করণীয় হলো—মালিককে খুঁজে বের করা, না পাওয়া গেলে তা গরীবকে দান করা অথবা প্রকৃত অভাবী হলে নিজে ব্যবহার করা।
দৈএনকে/জে .আ