শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মোহাম্মদপুরে কোটি টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৬ কালকিনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ভোলার অতিরিক্ত জেলা জজের বিরুদ্ধে বিচারিক অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহে ৩৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১,৪৮৪ ডেঙ্গু মোকাবিলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের এগিয়ে আসার আহ্বান বরফ গলনে বদলাচ্ছে পৃথিবীর আকৃতি, মেরু উঠছে—বিষুবীয় ভূমি নামছে পশ্চিম তীরে প্রেস টিভির নারী সাংবাদিককে আটকের অভিযোগ গুলশান-বনানীর লেক দূষণ বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেবে সরকার হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৬
  • শুধুমাত্র ‘শারীরিক সম্পর্ক’ মানে ধর্ষণ নয়, রায় দিল্লি হাইকোর্টের

    শুধুমাত্র ‘শারীরিক সম্পর্ক’ মানে ধর্ষণ নয়, রায় দিল্লি হাইকোর্টের
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    শুধুমাত্র ‘শারীরিক সম্পর্ক’ কথাটি উচ্চারণ করলেই তা ধর্ষণের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না বলে রায় দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো প্রমাণ ছাড়া এমন অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার ধর্ষণ বা জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কের মামলা টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়।

    বিচারপতি মনোজ কুমার ওহরির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ১৭ অক্টোবরের রায়ে এক ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছেন। এই ব্যক্তি আগে ১০ বছরের সাজা পেয়েছিলেন। ২০২৩ সালের মামলায় অভিযোগ ছিল, ২০১৪ সালে অভিযুক্ত এক আত্মীয় এক ১৬ বছরের কিশোরীর সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘ এক বছর ‘শারীরিক সম্পর্ক’ স্থাপন করেছিলেন।

    আদালতের সামনে আসা প্রমাণে দেখা যায়, কিশোরী ও তার বাবা-মা কেবল ‘শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে’ বলে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেই সম্পর্কের প্রকৃতি বা তার অর্থ কী, তা ব্যাখ্যা করেননি। আদালত পর্যবেক্ষণ করে বলেছে, 'এভাবে অস্পষ্টভাবে বলা ‘শারীরিক সম্পর্ক’ কথাটি আইনগতভাবে ধর্ষণ প্রমাণের মানদণ্ডে পড়ে না।' 

    আদালতের মতে, প্রসিকিউশন বা নিম্ন আদালত কেউই কিশোরীকে প্রশ্ন করেনি যে সে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছে, তাই অপরাধের মূল উপাদান প্রমাণ হয়নি। বিচারপতি ওহরি আরও বলেন, 'শিশু সাক্ষীর বক্তব্য যদি অসম্পূর্ণ হয়, আদালতের দায়িত্ব থাকে প্রশ্ন করে সেটি পরিষ্কার করা। আদালত কোনো অবস্থাতেই নির্বিকার থাকতে পারে না।' ফরেনসিক রিপোর্ট বা চিকিৎসা প্রমাণের অভাবে আদালত মন্তব্য করে যে, পুরো মামলাটি কেবল মৌখিক সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করেছে।

    রায়ে আরও বলা হয়েছে, 'শারীরিক সম্পর্ক' শব্দটি ভারতীয় দণ্ডবিধি বা পকসো আইনে কোথাও সংজ্ঞায়িত নয়, তাই এর অর্থ নির্ভর করে সাক্ষীর বক্তব্যের ওপর, যা এই মামলায় ব্যাখ্যা করা হয়নি। আদালত জানিয়েছে, আবেগ বা সহানুভূতি নয়, বিচার হয় প্রমাণের ভিত্তিতে, আর প্রমাণ না থাকলে দণ্ড টেকসই নয়। 

    এই মামলায় বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে— ভবিষ্যতে শিশু সাক্ষীর ক্ষেত্রে আদালতকে আরও সক্রিয় ও অংশগ্রহণমূলক হতে হবে, যাতে সত্য উদঘাটন হয়। আইনজীবীরা বলছেন, এই রায় যৌন অপরাধ মামলায় প্রমাণের মানদণ্ড নতুনভাবে নির্ধারণ করবে এবং সমাজে প্রচলিত ‘শারীরিক সম্পর্ক’ শব্দের ব্যবহারের আইনগত ব্যাখ্যা যে ভিন্ন, এটিই রায়ের মূল বার্তা।


    দৈএনকে/রে,আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন