বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

পাচিং ও ডেথ পাচিং ব্যবহারে কৃষকরা সন্তুষ্ট

পাচিং ও ডেথ পাচিং ব্যবহারে কৃষকরা সন্তুষ্ট
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ভড়া আমন মৌসুমে মাজরা পোকার আক্রমণে ক্ষতির মুখে পড়তে হতো মৌলভীবাজারের কৃষকেরা। এখন সেই চিরচেনা দৃশ্য বদলে যাচ্ছে। ক্ষতিকর পোকা দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে কৃষকেরা ঝুঁকছেন পরিবেশবান্ধব ‘পাচিং’ বা ‘ডেথ পাচিং’ পদ্ধতির দিকে।

বাঁশের খুঁটি ও গাছের ডাল ব্যবহার করে সহজলভ্য এই কৌশলে শিকারি পাখিরা ধানখেতে এসে পোকা খেয়ে ফেলে ফলে কীটনাশক ব্যবহারের খরচ কমছে, ফসল হচ্ছে সুরক্ষিত এবং পরিবেশ থাকছে দূষণমুক্ত।

প্রকৃতির সহায়তায় কৃষির রক্ষাকবচ, পাচিং পদ্ধতিতে ধানখেতে নির্দিষ্ট দূরত্বে বাঁশের খুঁটি বা গাছের ডাল পুঁতে দেওয়া হয়। খুঁটির মাথায় খড় বা শুকনো ডাল বেঁধে দেওয়া হয় যাতে পাখিরা এসে বসতে পারে। এই পাখিগুলো বিশেষ করে শালিক, ফিঙে, দোয়েল ও বাবুই ধানগাছের ক্ষতিকর মাজরা পোকার ডিম ও লার্ভা খেয়ে ফেলে। ফলে স্বাভাবিকভাবে কীটপতঙ্গের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকছে এবং ধানগাছ ও ফসল সুস্থভাবে বেড়ে ওঠছে।

কৃষকের অভিজ্ঞতা, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পতনঊষার ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার মিয়া বলেন, “আমি কয়েক বছর ধরে পাচিং ব্যবহার করছি। আগের মতো আর মাজরা পোকার আক্রমণ হয় না। এবারও জমিতে ৩০টি পাচিং দিয়েছি। এতে খরচও কমেছে, ধানের ফলনও ভালো হয়েছে।”

জেলার রাজনগর উপজেলার কৃষক নূরুল ইসলাম জানান, “আগে প্রতি মৌসুমে কীটনাশকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা খরচ হতো। এখন পাচিং ব্যবহারে সেই খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে। পাখিরা দিনভর ধানক্ষেতে বসে পোকা খেয়ে ফেলে এর ফলে দেখা মিলছে তারা যেন প্রাকৃতিক পাহারাদার হিসেবে কাজ করছে।”


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন