শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মোহাম্মদপুরে কোটি টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৬ কালকিনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ভোলার অতিরিক্ত জেলা জজের বিরুদ্ধে বিচারিক অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহে ৩৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১,৪৮৪ ডেঙ্গু মোকাবিলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের এগিয়ে আসার আহ্বান বরফ গলনে বদলাচ্ছে পৃথিবীর আকৃতি, মেরু উঠছে—বিষুবীয় ভূমি নামছে পশ্চিম তীরে প্রেস টিভির নারী সাংবাদিককে আটকের অভিযোগ গুলশান-বনানীর লেক দূষণ বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেবে সরকার হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৬
  • রাখাইনে হাসপাতালে বিমান হামলা: সেনা ও বিদ্রোহীদের সংঘাত তীব্রতর

    রাখাইনে হাসপাতালে বিমান হামলা: সেনা ও বিদ্রোহীদের সংঘাত তীব্রতর
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনা সরকারের বিমান হামলায় একটি হাসপাতালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার ফলে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং আরও অনেকেই আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে থাকা ত্রাণকর্মীরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে অনেকে গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন।

    মিয়ানমারে চলতি মাসেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে থেকেই সেনা সরকার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তীব্র অভিযান চালাচ্ছে। দেশটিতে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে গৃহযুদ্ধ চলমান রয়েছে এবং প্রতি বছরই বিমান হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এক দশকের গণতান্ত্রিক প্রগতি থেমে গিয়েছিল।

    সেনাবাহিনী আগামী ২৮ ডিসেম্বর ভোটের আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে এবং দাবি করছে, এটি দেশকে চলমান সংঘাত থেকে উত্তরণের একটি পথ। তবে বিদ্রোহীরা বলেছে, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় কোনো ভোট অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। সেনা সরকার সেই এলাকা পুনরুদ্ধার করতে হামলা জোরদার করেছে। 

    মিয়ামারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশের ঘটনাস্থলে থাকা ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন আউং জানান, বুধবার সন্ধ্যায় সামরিক সরকারের একটি যুদ্ধবিমান রাখাইনের ম্রাউক-ইউ শহরের হাসপাতালে বোমাবর্ষণ করে। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি ভয়াবহ। এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহত হয়েছেন আরও ৬৮ জন, এই সংখ্যাও আরও বাড়বে।’

    হামলার পর রাতেই হাসপাতালের বাইরে অন্তত ২০টি ঢাকা দেয়া মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এদিকে এই ঘটনা নিয়ে জান্তা সরকারের কোনও মুখপাত্রের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    সংবাদমাধ্যম বলছে, রাখাইন প্রদেশের প্রায় পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করে রাখাইনভিত্তিক জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। অং সান সু চির বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সেনা অভ্যুত্থানের অনেক আগে থেকেই প্রদেশটিতে সক্রিয় ছিল এই গোষ্ঠীটি।

    আরাকান আর্মির স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বুধবার রাত ৯টার দিকে হওয়া এই বিমান হামলায় হাসপাতালের ১০ জন রোগী ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

    সংঘাত পর্যবেক্ষকদের মতে, আরাকান আর্মি সেনা সরকারের জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। রাখাইনের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টিই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। তবে তাদের লক্ষ্য মূলত রাখাইন অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ। এই অঞ্চলের একদিকে বঙ্গোপসাগর, আর অন্যদিকে পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা অঞ্চল।

    এ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও অতীতে বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে অঞ্চলটির মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো ঘটনাও রয়েছে।

    এদিকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে রাখাইন অঞ্চল অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এই পদক্ষেপ সেখানে তীব্র মানবিক সংকট তৈরি করেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) গত আগস্টে জানিয়েছিল, সেখানে ক্ষুধা ও পুষ্টিহীনতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। 


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন