বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

শীতের সময় গরম পানি দিয়ে গোসল করা কতটা নিরাপদ?

শীতের সময় গরম পানি দিয়ে গোসল করা কতটা নিরাপদ?
ছবি- সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

শীতকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে অধিকাংশ মানুষই শরীর উষ্ণ রাখতে গরম কাপড় ব্যবহার করেন এবং ঠান্ডা থেকে সবসময় দূরে থাকার চেষ্টা করেন। এর প্রধান কারণ হলো, এই সময়ে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, পাশাপাশি শীতের নিজস্ব কষ্ট তো রয়েছেই।

এদিকে শীতে গোসল করাও এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় অনেকের কাছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই গরম পানি দিয়ে গোসল করেন। কিন্তু এ নিয়ে আবার নানা বিতর্ক রয়েছে। কারও মতে, শীতে গরম পানি দিয়ে গোসল করা ভালো, কারও মতে শরীরের ক্ষতি। এ নিয়ে যখন নানা মতামত, তখন বিষয়টি নিয়ে নর্থ অন্ধ্র অ্যাসোসিয়েশন অব ডার্মাটোলজিস্টের সভাপতি ডা. কে. ভেঙ্কট চালামের পরামর্শ জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানিয়েছেন, শীতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় গোসলের জন্য গরম পানি ব্যবহার করেন অনেকে। এতে ত্বক ফেটে যাওয়া ও জ্বালাপোড়ার সমস্যা হয়। ত্বকের বাইরের স্তর স্ট্র্যাটাম কর্নিয়াম- সুস্থ, নরম ও কোমল থাকার জন্য ১০ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখে। পানির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় ত্বকের কোষ অস্বাভাবিকভাবে ঝরে পড়ে যেতে থাকে।

শীতে ত্বকে ফাটল ধরা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হতে পারে। এটি ত্বককে এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত করে যে, একজন ব্যক্তি সম্ভাব্য দ্বিতীয় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ার মধ্যে থাকেন। ডা. ভেঙ্কটের মতে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত অংশ হচ্ছে তেল গ্রন্থি কম থাকে, যেমন- পায়ের নিচের অংশ, বাহু, হাত, মুখ ও ঠোঁটের সমস্যা হতে পারে।

শীতে যে কেউই শুষ্কতা অনুভব করতে পারে। তবে কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো অধিকতর ঝুঁকিকর হয়ে থাকে। যেমন- বয়স্ক ব্যক্তিরা, যারা বাইরে বেশি কাজ করেন, ডায়াবেটিস, কিডনি বা লিভারের রোগী বা হাইপোথাইরয়েডিজমের মতো অন্তর্নিহিত সমস্যা রয়েছে, মূত্রবর্ধক ওষুধ সেবনকারী বা রেটিনয়েডের মতো সাময়িক পণ্য ব্যবহারকারী রোগী ও ইচথিওথিসের মতো বংশগত অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদেরও গরম পানি দিয়ে গোসল করা ঝুঁকির কারণ।

এছাড়া গরম পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করা ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের বাধা দূর করতে পারে। জ্বালাপোড়াকারী পদার্থের সংস্পর্শে আসে এবং কম আর্দ্রতা ক্ষতির পরিমাণ বাড়াতে পারে। যারা আগে থেকেই একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো রোগে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন করে সমস্যার শুরু হতে পারে।

ডা. ভেঙ্কট গরম পানি দিয়ে খুবই কম গোসলের পরামর্শ দেন। গোসল করলেও হালকা গরম রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। গরম পানি ও সাবান দিয়ে গোসল এড়িয়ে চলা উচিত। এতে ত্বকের প্রতিরক্ষামূলক তেলকে আক্রমণাত্মকভাবে নষ্ট হয়।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন