বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মোহাম্মদপুরে কোটি টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৬ কালকিনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ভোলার অতিরিক্ত জেলা জজের বিরুদ্ধে বিচারিক অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহে ৩৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১,৪৮৪ ডেঙ্গু মোকাবিলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের এগিয়ে আসার আহ্বান বরফ গলনে বদলাচ্ছে পৃথিবীর আকৃতি, মেরু উঠছে—বিষুবীয় ভূমি নামছে পশ্চিম তীরে প্রেস টিভির নারী সাংবাদিককে আটকের অভিযোগ গুলশান-বনানীর লেক দূষণ বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেবে সরকার হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৬
  • ইসরায়েলি গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি কিশোরকে শেষ বিদায়

    ইসরায়েলি গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি কিশোরকে শেষ বিদায়
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি কিশোর মোহাম্মদ সাদ নাসআনের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় পশ্চিম তীরের রামাল্লা জেলার আল-মুগাইয়ির গ্রামে তার জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। শোকাহত পরিবার, স্বজনহারা ও গ্রামবাসী ১৪ বছর বয়সী মোহাম্মদকে চোখের পানিতে শেষ বিদায় জানান। ইসরায়েলি সহিংসতার শিকার হয়ে হঠাৎ থেমে যাওয়া এই কিশোর জীবনের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

    ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, শনিবার ইসরায়েলি সেনারা আল-মুগাইয়ির গ্রামে প্রবেশ করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় সেনারা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয় মোহাম্মদ সাদ নাসআন। তার পিঠ ও বুকে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

    গ্রামবাসীরা জানান, মোহাম্মদ কোনো অস্ত্র বহন করছিল না। সে ছিল স্কুলপড়ুয়া এক কিশোর-যার দিন কাটার কথা ছিল বই-খাতা আর স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু বাস্তবতা তার জন্য নিয়ে আসে গুলি আর অকাল মৃত্যু। জানাজার সময় তার মা-বাবার আহাজারীতে আকাশ ভারী হয়ে ওঠে, প্রতিবেশীরা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এই দৃশ্য যেন ফিলিস্তিনে বারবার ফিরে আসা এক করুণ অধ্যায়ের আরেকটি পৃষ্ঠা।

    পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনা অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরেই বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। নিয়মিত অভিযানে শিশু ও কিশোরদের প্রাণহানির ঘটনাও বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এসব অভিযানে অধিকাংশ সময় বেসামরিক মানুষ-যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।

    আল-মুগাইয়ির গ্রামটিও এর আগে একাধিকবার অভিযানের শিকার হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেনা প্রবেশের পরই ভয়ভীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। মোহাম্মদের মৃত্যু সেই দীর্ঘ সহিংসতারই আরেকটি নির্মম ফল।

    জানাজা শেষে গ্রামের মানুষ ক্ষোভ আর শোক একসঙ্গে প্রকাশ করে বলেন, মোহাম্মদের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়-এটি পুরো ফিলিস্তিনি সমাজের ক্ষত। একজন কিশোরের রক্তে ভিজে যায় মাটির পথ, আর প্রশ্ন হয়ে ওঠে-আর কত শিশু-কিশোর এভাবে হারিয়ে যাবে।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন