বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

মধ্যপ্রাচ্য শান্তির জন্য চুক্তিতে যা চায় আমিরাত

মধ্যপ্রাচ্য শান্তির জন্য চুক্তিতে যা চায় আমিরাত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সংযুক্ত আরব আমিরাত চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসান ঘটাতে যে কোনো শান্তি চুক্তিতে হরমুজ প্রণালির অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে কোনো দেশই ‘জিম্মি’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। খবর দিয়েছে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে গারগাশ বলেন, আমিরাত চায় যুদ্ধের অবসান, তবে তা যেন কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি না হয়। তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন কোনো চুক্তি চাই না যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মতো মূল সমস্যাগুলোকে আড়ালে রাখে। এগুলো সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্য আরও বিপজ্জনক ও অস্থির হয়ে উঠবে।”

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। গারগাশ বলেন, এই জলপথের নিরাপত্তা কেবল আঞ্চলিক বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “কোনো দেশই এই জলপথকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা যেকোনো শান্তি চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে।”

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি ইরানকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে বলেন, যদি চুক্তি না হয় এবং হরমুজ প্রণালি খোলা না হয়, তেহরানকে ‘নরক’ দেখতে হবে। এছাড়া গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আমিরাত সবচেয়ে বেশি ইরানি হামলার শিকার হয়েছে। গারগাশ বলেন, “আমিরাতের জন্য এটি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি, যা বর্তমানে বাস্তবে ঘটছে। তবে এই চাপের মধ্যেও আমাদের অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে।”

তিনি আরও মন্তব্য করেন, ইরানের কৌশল আরব দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরানোর বদলে উল্টো ওয়াশিংটনের কাছাকাছি নিয়ে আসছে। গারগাশ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই আমিরাতের প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে থাকবে। এছাড়া আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পরিশেষে তিনি বলেন, “আমিরাত ইরানের সঙ্গে শত্রুতা চায় না, তবে বর্তমান তেহরান সরকারের ওপর আস্থা রাখা অসম্ভব। তাদের ধ্বংসাত্মক নীতি কেবল শাসকগোষ্ঠী রক্ষার জন্য, দেশের মঙ্গলের জন্য নয়।”


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন