বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ওয়ানডেতে থাকছেন, টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ছেন নিগার গুলশানে আ’লীগের মিছিলের তথ্য ছিল, তবে সময়টা আন্দাজ করতে পারেনি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মানুষের গল্প, লোডশেডিং নিয়ে আলোচিত সিনেমা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা, সম্মতি ছিল বিসিবিরও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা চবি আলাওল হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি, কক্ষে তালা নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতিতে সফল হওয়ার প্রত্যয় ছাত্রদল সভাপতির মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিরল সতর্কতা, হুথি-সৌদি উত্তেজনা তুঙ্গে
  • বাবা–মায়ের ভিন্ন বার্তা ও শিশুর মানসিক প্রভাব

    বাবা–মায়ের ভিন্ন বার্তা ও শিশুর মানসিক প্রভাব
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    শিশু লালন–পালনে বাবা–মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় দেখা যায়, সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ বা আদর করার ক্ষেত্রে বাবা–মায়ের সিদ্ধান্তে ভিন্নতা থাকে। এই অসামঞ্জস্য শিশুর মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে তার আচরণ ও মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।

    বাস্তব চিত্র

    একটি সাধারণ পরিস্থিতিতে দেখা যায়—মা সন্তানকে কোনো কিছুর জন্য (যেমন চকলেট খাওয়া) নিষেধ করছেন, কিন্তু বাবা গোপনে তা-ই দিয়ে দিচ্ছেন। শিশুর কাছে তখন বাবা হয়ে ওঠেন “সহায়ক” এবং মা হয়ে যান “কঠোর” ব্যক্তি। এই ধরনের ঘটনা শিশুর মনে পারিবারিক নিয়ম সম্পর্কে অস্পষ্টতা তৈরি করে।

    মানসিক প্রভাব

    ১. সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভ্রান্তি (Cognitive Conflict)
    শিশু সহজ ও পরিষ্কার নিয়ম বুঝতে চায়। কিন্তু বাবা–মায়ের ভিন্ন আচরণ তাকে বুঝতে বাধা দেয় যে কোনটা ঠিক। এর ফলে তার মধ্যে দ্বিধা, জেদ ও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

    ২. আচরণগত কৌশল শেখা (Manipulative Behavior)
    শিশু খুব দ্রুত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে শেখে। যখন সে দেখে যে এক অভিভাবকের মাধ্যমে নিষেধ অমান্য করা সম্ভব, তখন সে “কার কাছে চাইলে লাভ হবে”—এ ধরনের কৌশল রপ্ত করতে পারে, যা ভবিষ্যতে আচরণগত সমস্যার কারণ হতে পারে।

    ৩. নিরাপত্তা বোধের ঘাটতি
    বাবা–মায়ের মধ্যে নিয়মের অমিল থাকলে শিশুর কাছে পরিবার একটি অস্থির জায়গা মনে হতে পারে। এতে তার আবেগগত নিরাপত্তা কমে যেতে পারে।

    সমাধানের উপায়

    ১. একক নিয়ম (Consistent Parenting)
    বাবা–মা উভয়ের উচিত আগে থেকেই আলোচনা করে নিয়ম ঠিক করা এবং তা একইভাবে প্রয়োগ করা।

    ২. শিশুর সামনে ঐক্য বজায় রাখা
    শিশুর সামনে পরস্পরের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা উচিত, যাতে সে বুঝতে পারে পরিবারের নিয়ম স্থির ও নির্ভরযোগ্য।

    ৩. ব্যক্তিগত মতভেদ আলাদা জায়গায় আলোচনা করা
    মতভেদ থাকলে তা শিশুর সামনে নয়, বরং আলাদা সময়ে আলোচনা করা উচিত।

    সবশেষ, শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা ও ঐক্য। বাবা–মা যদি একই নীতিতে চলেন, তাহলে শিশু নিরাপদ, আত্মবিশ্বাসী এবং শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বড় হয়ে ওঠে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ