নিঃস্বার্থ দানই উত্তম—ইসলামের বার্তা

ইসলামি জীবনবিধানে দান-সদকা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। তবে এই ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো নিয়তের বিশুদ্ধতা বা ইখলাস। অনেক সময় আমরা অভাবগ্রস্ত বা ফকীরকে ভিক্ষা দেওয়ার পর বলি, "আমার জন্য দু’আ করবেন।" আপাতদৃষ্টিতে এটি সাধারণ মনে হলেও, প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকদের মতে, এটি দানের পূর্ণ সওয়াব প্রাপ্তিতে অন্তরায় হতে পারে। পবিত্র কুরআন ও সলফে সালেহীনদের বক্তব্য অনুযায়ী, দান হতে হবে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ।
ফকীরকে ভিক্ষা দেয়ার পর বলবেন না, "আমার জন্য দু'আ করো।"
মহান আল্লাহ বলেন,
وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا
إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا
উচ্চারণঃ- ওয়াইউত্য়িমূনাত্ তায়া-মা ‘আলা- হুব্বিহী মিসকীনান ওয়া ইয়াতীমান ওয়া আসীরা।
ইন্নামা নুত্য়িমুকুম লিওয়াজহিল্লা-হি লা- নুরীদু মিনকুম জাযা-আঁও ওয়ালা- শুকূরা।
তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, এতীম ও বন্দীকে আহার্য দান করে। তারা বলে, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আমরা তোমাদেরকে আহার্য দান করি এবং তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করি না।"--- (সুরা দাহার: ৮-৯)।
ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে ব্যক্তি ফকীরকে সাহায্য করার পর তার কাছে দু'আ বা কৃতজ্ঞতা চাইবে সে এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবে না। এই কারণে যে, দু'আ সবচেয়ে বড় প্রতিদান ও উচ্চ পর্যায়ের কৃতজ্ঞতা। দানকারী যখন এগুলো চাইবে, তখন সে যেন তার দানের বিনিময় চাইল।
(মাজমূ'ঊ ইবনে তাইমিয়াহঃ ১১/১১১ পৃ)।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, দান করার সময় মনে এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, এর বিনিময় কেবল মহান আল্লাহ দান করবেন। গ্রহীতা নিজে থেকে দু’আ করলে সেটি গ্রহণ করা যাবে, কিন্তু দাতা হিসেবে তা দাবি করা বা চাওয়ার মাধ্যমে নিজের আমলের সওয়াব কমিয়ে ফেলা উচিত নয়। বরং দান করে তা ভুলে যাওয়াই হলো ইখলাসের পরিচয়।
দৈএনকে/জে, আ