বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

পেন্টাগনের নতুন পরিকল্পনা ঘিরে উদ্বেগ, বাড়ছে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা

পেন্টাগনের নতুন পরিকল্পনা ঘিরে উদ্বেগ, বাড়ছে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এমন একটি নতুন নিউক্লিয়ার ডকট্রিন তৈরির কাজ করছে, যেখানে দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত অস্ত্রের পাশাপাশি আঞ্চলিক সংঘাতে স্বল্পপাল্লার ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবির তত্ত্বাবধানে এই নতুন কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে। নেব্রাস্কায় ইউএস স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের একটি সামরিক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া বা চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো আক্রান্ত হলে কী ধরনের পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে, সেই বিষয়টিকে সামনে রেখেই নতুন নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।

পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পারমাণবিক সক্ষমতা থাকা দরকার, যা বাস্তব পরিস্থিতিতে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে। তার মতে, এতে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং প্রতিরোধ সক্ষমতাও শক্তিশালী হবে।

এলব্রিজ কোলবি দীর্ঘদিন ধরেই ট্যাকটিক্যাল বা স্বল্পপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রের পক্ষে মত দিয়ে আসছেন। তার যুক্তি, বর্তমান মার্কিন পারমাণবিক নীতি মূলত বৃহৎ আকারের স্ট্র্যাটেজিক হামলার জন্য প্রস্তুত, যা বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে সব সময় কার্যকর বিকল্প নয়।

তবে নতুন এই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, স্বল্পপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর জোর বাড়লে প্রচলিত যুদ্ধেও এসব অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

কংগ্রেসের এক জ্যেষ্ঠ সহকারী এনবিসিকে জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বেশি পারমাণবিক বিকল্প চান। তবে বর্তমান প্রস্তাব সেই লক্ষ্য কতটা পূরণ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বর্তমান মার্কিন পারমাণবিক নীতি 'ক্যালকুলেটেড অ্যামবিগুইটি' বা হিসাবকৃত অস্পষ্টতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই 'নো ফার্স্ট ইউজ' নীতি গ্রহণ করেনি। অর্থাৎ প্রয়োজনে প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিকল্প নিজেদের জন্য খোলা রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক নীতিতে এই সম্ভাব্য পরিবর্তন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার ৮১ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন