বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ওয়ানডেতে থাকছেন, টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ছেন নিগার গুলশানে আ’লীগের মিছিলের তথ্য ছিল, তবে সময়টা আন্দাজ করতে পারেনি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মানুষের গল্প, লোডশেডিং নিয়ে আলোচিত সিনেমা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা, সম্মতি ছিল বিসিবিরও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা চবি আলাওল হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি, কক্ষে তালা নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতিতে সফল হওয়ার প্রত্যয় ছাত্রদল সভাপতির মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিরল সতর্কতা, হুথি-সৌদি উত্তেজনা তুঙ্গে
  • শৈশবের সোনালী দিন ও অমলিন বন্ধুত্বের স্মৃতিকথা

    শৈশবের সোনালী দিন ও অমলিন বন্ধুত্বের স্মৃতিকথা
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    প্রিয় বন্ধু শামীম,

    অনেক দিন হলো তোর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই, ঠিকমতো কথা হয় না। কিন্তু বিশ্বাস কর, ব্যস্ততার এই যান্ত্রিক জীবনে যখনই একটু একা হই কিংবা মন খারাপ থাকে, আমাদের সেই শৈশবের দিনগুলো কোনো না কোনোভাবে ভেসে ওঠে চোখের সামনে। আজ হঠাৎ করেই পুরনো একটা বাক্স গোছাতে গিয়ে পুরোনো দিনের কিছু জিনিসপত্র হাতে এল, আর ঠিক তখনই তোর কথা খুব বেশি করে মনে পড়ে গেল। মনে হলো, তোর উদ্দেশ্যে একটা দীর্ঘ চিঠি লিখি—যেখানে কোনো হিসাব-নিকাশ নেই, শুধু আমাদের সেই সোনালী দিনগুলোর টুকরো টুকরো স্মৃতি আর না বলা কিছু কথা জমা আছে।

    আজকাল বড্ড বেশি স্মৃতিপরায়ণ হয়ে পড়ি রে। বয়স তো বাড়ছে, চারপাশের পৃথিবীটাও কেমন যেন বদলে গেছে। সবাই ছুটছে একটা অজানা প্রতিযোগিতায়। অথচ আমাদের শৈশবটা কী সুন্দর আর সহজ-সরল ছিল! আমাদের সেই ছোটবেলাকার দুপুরগুলো তোর কি একটুও মনে পড়ে? সেই তীব্র গরমে দুপুরের খাঁ-খ খাঁ রোদের মধ্যে স্কুল ছুটি হওয়ার পর ধুলো উড়িয়ে বাড়ি ফেরা, কিংবা দুপুরের আরামের ঘুম উপেক্ষা করে টিফিনের জমানো টাকায় চাটনি বা লজেন্স কেনার সেই আনন্দ—সবকিছু আজ সিনেমার মতো মনে হয়।

    আমাদের সেই বটগাছটার কথা কি তোর মনে আছে? যেটার নিচে দাঁড়িয়ে আমরা কত না প্ল্যান করতাম! বড় হয়ে কী করব, কে কত বড় মানুষ হব, কত কত স্বপ্ন দেখতাম সেই বয়সে। অথচ তখন কে জানত, বড় হওয়া মানেই জীবন থেকে সেই ছোট্ট নিখাদ আনন্দের দিনগুলো আস্তে আস্তে হারিয়ে যাওয়া। আজ তো আমরা দুজনে দুই মেরুতে, জীবনের তাগিদে কোথায় যেন হারিয়ে গেছি। তুই তোর ব্যস্ততা নিয়ে আছিস, আমি আমার মতো করে জীবন লড়ছি। কিন্তু মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে, যদি জাদুর বলে এক মুহূর্তের জন্য সেই শৈশবে ফিরে যাওয়া যেত! যেখানে কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না, ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ভয় ছিল না। ছিল শুধু অফুরন্ত প্রাণশক্তি আর একে অপরের সঙ্গে কাটানো অন্তহীন সময়।

    আজও পরিষ্কার মনে পড়ে আমাদের সেই স্কুল পালানোর দিনগুলোর কথা। কী এক অদ্ভুত রোমাঞ্চই না কাজ করত তখন! ক্লাসের একঘেয়েমি থেকে বাঁচতে স্যারের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সেই উত্তেজনা আজ ভাবলেও মুখে অজান্তেই হাসি ফুটে ওঠে। মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে কার পায়ে কার লাথি লাগল, কার জার্সিটা কাদা মাখামাখি হয়ে গেল আর বাড়ি গিয়ে মায়ের বকুনি খাওয়ার ভয়ে কীভাবে দুজনে মিলে ফন্দি আঁটতাম—সবকিছু যেন গতকালের ঘটনা বলে মনে হয়। কোনো এক বৃষ্টির দিনে আমরা দুজন মিলে ভিজে ভিজে স্কুল থেকে ফেরার সময় যে কি পরিমাণ আনন্দ পেতাম, তা আজ কোটি টাকা খরচ করেও পাওয়া যাবে না। তুই হয়তো ভুলে গেছিস, কিন্তু আমার প্রতিটি রক্তকণিকায় সেই স্মৃতিগুলো আজও অমলিন।

    শৈশবের সেই দিনগুলোতে আমাদের ঝগড়াও হতো ভীষণ। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে কতবার কথা বলা বন্ধ করে রেখেছি, আবার পরক্ষণেই কোনো কারণ ছাড়াই আবার একসঙ্গে হাসিমুখে মেতে উঠেছি। তখন অহংকার বা ইগো বলে কোনো শব্দ আমাদের অভিধানে ছিল না। মান-অভিমানগুলোও ছিল কী ভীষণ পবিত্র আর ক্ষণস্থায়ী! আজ বড় হয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্কগুলো কেমন যেন জটিল হয়ে গেছে। মানুষ এখন অনেক বেশি স্বার্থপর, অনেক বেশি হিসাব করে চলে। সেখানে তোদের মতো শৈশবের বন্ধুদের কথা যখন মনে হয়, বুকটা কেমন যেন খালি হয়ে যায়। আমাদের সেই বন্ধুত্বে কোনো ভেজাল ছিল না, কোনো স্বার্থ ছিল না। তুই আমার এমন একজন বন্ধু ছিলে, যার সামনে আমি পুরোপুরি নিজের মতো থাকতে পারতাম, কোনো মুখোশ পরার প্রয়োজন হতো না।

    জীবন আমাদের অনেক দূর টেনে নিয়ে এসেছে, শামীম। চলার পথে কত মানুষ এল, কত মানুষ জীবন থেকে হারিয়ে গেল। কিন্তু শৈশবের শেকড়টা তো গভীরেই থেকে যায়। মাঝে মাঝে যখন খুব ক্লান্তি ঘিরে ধরে, তখন মনে হয় যদি একবার তোর সঙ্গে দেখা হতো! ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আগের মতো আড্ডা দিতাম, কোনো তাড়া থাকত না, কোনো দায়িত্বের বোঝা থাকত না। শুধু আমরা দুজনে আর আমাদের সেই পুরোনো গল্পগুলো।

    জানি না তোর জীবন এখন কেমন চলছে, তুই কেমন আছিস। তোর পরিবারের সবাই কেমন আছে? আশা করি সবাই ভালো আছে। তোর হয়তো অনেক ব্যস্ততা, তবুও যদি কখনো সময় হয়, এই চিঠিটা পড়ে একটু স্মৃতির সাগরে ডুব দিস। ভাবিস তো একবার, আমরা কত দ্রুত বড় হয়ে গেলাম! অথচ মনটা সেই আগের মতোই রয়ে গেছে।

    কখনো সুযোগ পেলে অবশ্যই যোগাযোগ করিস, কিংবা কোনো একদিন হঠাৎ করে কোথাও এক কাপ চায়ে আমাদের পুরোনো আড্ডাটা আবার জমিয়ে তুলব—এই আশাটুকু আজীবন মনে লালন করি। নিজের অনেক যত্ন নিস, ভালো থাকিস বন্ধু। শৈশবের সেই অমলিন স্মৃতিগুলো আজও আমার হৃদয়ের সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গায় সযত্নে তোলা আছে, আর সেখানে তোর স্থান সবসময় বিশেষ।

    ইতি, তোর সেই বাল্যকালের বন্ধু, মো: জিয়াউর রহমান।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন