বাথরুমের দরজায় দোয়ার স্টিকার লাগানো যাবে কি?

ইসলামে প্রস্রাব-পায়খানার নির্দিষ্ট আদব ও শিষ্টাচার রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, টয়লেটে প্রবেশের আগে ও পরে নির্দিষ্ট দোয়া পড়ার কথা। তাই অনেকেই দোয়াগুলো সহজে মনে রাখার জন্য বাথরুমের দরজায় দোয়ার স্টিকার লাগিয়ে রাখেন। তবে এ ক্ষেত্রে দরজার কোন পাশে স্টিকার লাগানো হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নোংরা স্থানগুলো জিন ও শয়তানদের অবস্থানের জায়গা। তাই কেউ শৌচাগারে প্রবেশ করলে যেন দোয়া পড়ে। বাথরুমে প্রবেশ ও বের হওয়ার দোয়াগুলোও সংক্ষিপ্ত ও সহজ। নিয়মিত পড়ার মাধ্যমে এগুলো সহজেই মুখস্থ করা যায়।
বাথরুমের দরজায় দোয়ার স্টিকার
বাথরুমে প্রবেশের দোয়া মনে রাখার জন্য বা প্রবেশের আগে দেখে পড়ার উদ্দেশ্যে দরজার বাইরের দিকে** দোয়া লেখা স্টিকার লাগানো যেতে পারে। এতে দোয়া পড়ার বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়ার সুবিধা হয়।
তবে বাথরুমের দরজার ভেতরের দিকে কিংবা বাথরুমের ভেতরে আল্লাহর নাম, কোরআনের আয়াত, হাদিস বা দোয়া লেখা স্টিকার লাগানো বা ঝুলিয়ে রাখা অনুচিত ও মাকরূহ বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামি জ্ঞানীরা। কারণ, বাথরুমের ভেতরের অংশ সাধারণত অপবিত্রতা ও নাপাকির স্থান। পবিত্র বিষয়গুলো এমন স্থানে লেখা বা প্রদর্শন করা শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
আল্লাহর নামের সম্মানের বিষয়
পবিত্র কোরআনে আল্লাহর নিদর্শন ও তাঁর নাম-সংবলিত বিষয়কে সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অপবিত্র স্থান থেকে আল্লাহর নাম ও ধর্মীয় বাণীকে দূরে রাখা উচিত।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) শৌচাগারে প্রবেশের সময় এমন একটি আংটি খুলে রাখতেন, যাতে আল্লাহর নাম বা ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ লেখা ছিল।
হজরত আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী কারীম (সা.) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁর আংটিটি খুলে রাখতেন।’ ওই আংটিতে ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ লেখা ছিল বলে হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৯।
সুতরাং, বাথরুমে প্রবেশের দোয়া মনে রাখার জন্য দরজার **বাইরের দিকে** স্টিকার লাগানো যেতে পারে। তবে বাথরুমের ভেতরে বা দরজার ভেতরের অংশে কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, হাদিস কিংবা দোয়া লেখা বা প্রদর্শন না করাই শিষ্টাচারসম্মত।