আবুল বারকাতের সম্পদের হিসাব তলব করেছে দুদক

জ্ঞাত আয়ের বাইরে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতের সম্পদের হিসাব তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো পৃথক আদেশে নোটিশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী জমা দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় ড. আবুল বারকাত, তার স্ত্রী এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ দাখিল করতে হবে।
নির্ধারিত ছকে কমিশন বরাবর এসব তথ্য জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করলে কিংবা মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিলে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় জনতা ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাতকে ২০২৫ সালের ১১ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া এননটেক্স গ্রুপের নামে প্রায় ৫৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মামলায়ও তিনি চার্জশিটভুক্ত আসামি। এ মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান ও আবুল বারকাতসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের অক্টোবরে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।
এদিকে গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের চেয়ারম্যান শামীমা আতিকুল্লাহ খানসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ঋণসংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, শিল্প পরিবারের ঋণ ছিল সোনালী ব্যাংকে। ২০১২ সালে জনতা ব্যাংক ওই ঋণটি নিয়মিত অবস্থায় কিনে নেয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন করে ঋণ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে গ্রুপটির প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।