সম্পত্তি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত চাইলেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী

নিজের পৈতৃক ও বৈধভাবে ক্রয় করা সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, বাড়ি-দোকান ভাঙচুর, মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তা চেয়েছেন ভুক্তভোগী ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার পৈতৃক ও বৈধভাবে ক্রয় করা সম্পত্তি, বসতবাড়ি, দোকানপাট এবং ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও তিনি প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন।
তার অভিযোগ, প্রিন্সিপাল মো. লিয়াকত আলী, মাহাবুব আলম শেখ, মো. মানিক ও মো. তুহিনসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছেন। টাকা না দিলে তাকে ও তার পরিবারকে শান্তিতে বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর তার বসতজমির বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর করা হয় এবং গ্যারেজ থেকে রিকশাসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনার পর তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং মানিকদী সেনা ক্যাম্পেও লিখিত অভিযোগ দেন। তার দাবি, সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের কোনো দাবিদাওয়া নেই বলে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে আবারও তার কাছে ৫ কোটি টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল রাতে পল্লবীর বাইগারটেক এলাকায় তার পৈতৃক ও বৈধভাবে ক্রয় করা বসতবাড়িতে প্রায় ২০০ জন লোক অস্ত্র ও ধারালো সামগ্রী নিয়ে হামলা চালায় বলে তার অভিযোগ। এ সময় বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভেঙে ফেলা এবং প্রায় ১০টি ট্রাকে করে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, বাড়ির ইট, লোহা, টিন, অটোরিকশার ব্যাটারিসহ বিভিন্ন মালামালের পাশাপাশি সেখানে বসবাসকারী ভাড়াটিয়াদের প্রায় ২ কোটি টাকার মালামালও নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানোর পরও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী। বাড়ি ভাঙার সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও তার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ওই সময়ের ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান।
পরবর্তীতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছেও আইনগত সহায়তার আবেদন করেন বলে জানান তিনি। তবে সেখান থেকেও কার্যকর ব্যবস্থা পাননি বলে অভিযোগ করেন।
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেওয়ানি মোকদ্দমা নং ৮০/২৬ দায়ের করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মোকদ্দমা নং ২০৫/২৬, ধারা ১৪৫-এর অধীনে মামলা করা হয়েছে। আদালত নালিশি সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তার অভিযোগ, আদালতের আদেশ ও চলমান আইনি প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে ওই জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেও যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পরে মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারের সহযোগিতায় সেখানে আপাতত কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে রাতের বেলায় জমি দখলের চেষ্টা এবং চাঁদা দাবির ঘটনা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, তার অন্য বাড়ির ভাড়াটিয়াদেরও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে বাড়ি ও দোকানের ভাড়া দাবি করা হচ্ছে। এতে ভাড়াটিয়ারাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান তিনি।
সবশেষে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রিন্সিপাল লিয়াকত আলী ও তার ছেলে গোলাম কাওছারের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তার একটি দোকানে গিয়ে ভাঙচুর করেন এবং দোকানের ভাড়াটিয়ার কাছে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বিষয়টি জানানো হলে পল্লবী থানার ওসি ঘটনাস্থলে যান এবং সেখানে ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তিকে দেয়াল ভাঙচুর করতে দেখেন। তবে এরপরও ওই ঘটনায় মামলা বা কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কথা বলতে চান না এবং কোনো সংঘাতও চান না। সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে কারও দাবি থাকলে আদালতের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বাড়ি-দোকান ভাঙচুর, মালামাল নিয়ে যাওয়া, জমি দখলের চেষ্টা কিংবা চাঁদা দাবি করে থাকে, তাহলে সেসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার পাওয়া একজন নাগরিকের অধিকার।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর, মালামাল নিয়ে যাওয়া ও চাঁদা দাবির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান।
এ ছাড়া ৩০ এপ্রিলের বাড়ি ভাঙচুর এবং ৯ সেপ্টেম্বরের দোকান ভাঙচুরের ঘটনা তদন্ত, আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, কোনো পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং তার, তার পরিবারের সদস্য ও ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি কোনো বেআইনি প্রতিশোধ চান না। তার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই তার প্রত্যাশা।