রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৫৭ মোদির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের জরিমানার নোটিশ সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অধ্যাদেশে সংশোধন হাইকোর্টে জামিনের পর আদালতে জামিননামা দিলেন এমপি গাজী নজরুল আইইএলটিএসে ৯-এ ৯ পাওয়ার পেছনের গল্প জানালেন ঢাবির রাইসা শাম্মা শেফালির একার রানও করতে পারল না বাংলাদেশ, ১১৪ রানের হার উপকূলের তেল-গ্যাস উত্তোলনে ইতালির বিনিয়োগ চাইলেন স্পিকার আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ সম্পত্তি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত চাইলেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী অপ্রতিম হত্যা: ১২ ঘণ্টায় চারজন গ্রেপ্তার, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • আইইএলটিএসে ৯-এ ৯ পাওয়ার পেছনের গল্প জানালেন ঢাবির রাইসা শাম্মা

    আইইএলটিএসে ৯-এ ৯ পাওয়ার পেছনের গল্প জানালেন ঢাবির রাইসা শাম্মা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আইইএলটিএসে সর্বোচ্চ ৯ ব্যান্ড পাওয়া অনেকের কাছে দীর্ঘদিনের কঠোর প্রস্তুতির ফল মনে হতে পারে। কিন্তু রাইসার অভিজ্ঞতা বলছে, পরীক্ষার কয়েক মাস আগে থেকে বই খুলে বসাই সবকিছু নয়। ভাষার সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়, নিয়মিত পড়াশোনা, ইংরেজি শোনা এবং কথা বলার অভ্যাস—এসবই ধীরে ধীরে তৈরি করে দেয় প্রয়োজনীয় দক্ষতা।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন রাইসা। বর্তমানে তিনি কানাডার ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর মাস্টার অব ম্যানেজমেন্ট অ্যানালিটিকস বিভাগে পড়ছেন। উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনের প্রয়োজনেই তিনি আইইএলটিএস পরীক্ষা দেন।

    রাইসার মতে, পরীক্ষার আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই মূল বিষয় নয়। চারটি দক্ষতা—লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং—ভালো করতে হলে আগে থেকেই ইংরেজির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা দরকার।

    শোনার অভ্যাসেই লিসেনিংয়ের ভিত্তি

    ইংরেজি শোনার দক্ষতা গড়ে তুলতে ছোটবেলার অভ্যাসকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন রাইসা। ইংরেজি অনুষ্ঠান, খবর, সিনেমা ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নিয়মিত দেখতেন তিনি। শুরুতে সব কথা বোঝা সহজ ছিল না। বিশেষ করে ভিন্ন দেশের মানুষের উচ্চারণ ধরতে সময় লেগেছে।

    প্রথম দিকে সাবটাইটেল ব্যবহার করলেও পরে ধীরে ধীরে তা বাদ দিয়ে শোনার চেষ্টা করেছেন। এতে ইংরেজি শব্দ, উচ্চারণ ও বাক্যের স্বাভাবিক গতি ধরার ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

    যাঁরা নতুন করে ইংরেজি শেখা শুরু করছেন, তাঁদের কঠিন কনটেন্ট দিয়ে শুরু করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি। অ্যানিমেটেড সিনেমা, সহজ গল্প, পডকাস্ট কিংবা সংবাদ দিয়ে অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে। শুরুতে প্রতিটি শব্দ বুঝতে না পারলেও নিয়মিত শুনতে থাকলে ধীরে ধীরে বিষয়টি সহজ হয়ে আসে।

    তবে আইইএলটিএসের লিসেনিং অংশের জন্য শুধু ভাষা বোঝার দক্ষতা থাকলেই হবে না। প্রশ্নের ধরনও আগে থেকে জানা দরকার। নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর বা নির্দিষ্ট তথ্য শোনার সময় সামান্য অসতর্কতাতেও ভুল হতে পারে। তাই নিয়মিত মক টেস্ট দেওয়ার পরামর্শ তাঁর।

    রিডিংয়ে মুখস্থের চেয়ে পড়ার অভ্যাস

    রাইসার ইংরেজি পড়ার দক্ষতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বই পড়ার অভ্যাস। বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই ছোটবেলা থেকে বই পড়েছেন তিনি। সহজ বই দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে তুলনামূলক কঠিন লেখার দিকে এগিয়েছেন।

    শব্দভান্ডার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও শুধু আলাদা করে শব্দ মুখস্থ করার ওপর নির্ভর করেননি। তাঁর মতে, কোনো শব্দ একটি বাক্য, গল্প বা বাস্তব পরিস্থিতিতে কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা দেখলে সেটি মনে রাখা সহজ হয়।

    আইইএলটিএসের রিডিং অংশে সময় ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি। প্রথমেই পুরো লেখাটি খুঁটিয়ে পড়ে সময় নষ্ট না করে আগে এর মূল বক্তব্য বোঝার চেষ্টা করা যায়। এরপর নাম, সংখ্যা, গুরুত্বপূর্ণ শব্দ বা নির্দিষ্ট তথ্য চিহ্নিত করে প্রশ্ন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অংশে ফিরে গেলে সময় বাঁচে।

    রাইসার কাছে রিডিং শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতি নয়। নিয়মিত পড়ার অভ্যাস মানুষের চিন্তা, বিশ্লেষণ এবং নিজের বক্তব্য প্রকাশের ক্ষমতাও বাড়ায়।

    রাইটিংয়ে কঠিন শব্দ নয়, পরিষ্কার ভাবনা

    আইইএলটিএসের রাইটিং অংশে অনেক পরীক্ষার্থী কঠিন শব্দ ব্যবহারকে বেশি গুরুত্ব দেন। কিন্তু রাইসার অভিজ্ঞতা হলো, জটিল শব্দের চেয়ে পরিষ্কারভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার দক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    ছোটবেলা থেকে কোনো লেখা পড়ে তার সারাংশ তৈরি করা, নতুন শব্দ লিখে রাখা কিংবা নিজের চিন্তা লিখে রাখার অভ্যাস ছিল তাঁর। পরবর্তী সময়ে এসব ছোট চর্চাই রাইটিং দক্ষতা তৈরিতে কাজে দিয়েছে।

    রাইটিংয়ে ভালো করতে হলে গ্রামারের মৌলিক বিষয়গুলো পরিষ্কার থাকা জরুরি। বাক্য গঠন, টেন্স এবং সাবজেক্ট-ভার্বের সামঞ্জস্যের মতো বিষয়গুলোতে দুর্বলতা থাকলে ভালো লেখা কঠিন হয়ে যায়।

    একই সঙ্গে প্রয়োজন জটিল বাক্য গঠনের অনুশীলন। কয়েকটি ছোট বাক্যে একই কথা আলাদা করে না লিখে কীভাবে যুক্তিসংগতভাবে একটি বড় বাক্যে ভাবটি প্রকাশ করা যায়, সেটিও আয়ত্ত করতে হয়।

    গ্রাফ বা চার্টভিত্তিক প্রশ্নের ক্ষেত্রে শুধু সংখ্যা তুলে দিলেই যথেষ্ট নয়। কোন দিকে পরিবর্তন হয়েছে, কোথায় পার্থক্য তৈরি হয়েছে কিংবা তথ্যগুলোর মধ্যে কী সম্পর্ক রয়েছে—সেটিও ব্যাখ্যা করতে হয়।

    স্পিকিংয়ে আত্মবিশ্বাস আসে নিয়মিত কথা বলায়

    ইংরেজি বুঝতে বা লিখতে পারলেও অনেকেই কথা বলার সময় আটকে যান। রাইসার মতে, এই ভয় কাটানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত কথা বলা।

    ছোটবেলা থেকেই ইংরেজিতে কথা বলার চেষ্টা করেছেন তিনি। আশপাশের যারা ভালো ইংরেজি বলতেন, তাঁদের কথা শুনে বাক্য তৈরি ও উচ্চারণের ধরনও লক্ষ করতেন।

    বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা কিংবা নিজের দৈনন্দিন চিন্তা ইংরেজিতে প্রকাশের চেষ্টা—এ ধরনের চর্চা স্পিকিংয়ের দক্ষতা বাড়াতে পারে।

    তবে আইইএলটিএসের স্পিকিং অংশের জন্য উত্তর মুখস্থ করে যাওয়াকে কার্যকর মনে করেন না তিনি। কারণ পরীক্ষায় স্বাভাবিক কথোপকথনের মতো করেই নিজের অভিজ্ঞতা, পছন্দ, মতামত ও চিন্তা প্রকাশ করতে হয়।

    নিজের জীবন থেকে উদাহরণ দিয়ে উত্তর দেওয়ার অভ্যাস তাই বেশি কাজে আসে। কোথায় থাকেন, কী ধরনের বই পড়েন, কোন বিষয় পছন্দ করেন কিংবা অবসর সময়ে কী করেন—এ ধরনের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্বাভাবিকভাবে বলার প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।

    সাফল্যের পেছনে দীর্ঘদিনের ছোট অভ্যাস

    রাইসার অভিজ্ঞতার মূল কথাটি হলো—আইইএলটিএসে ভালো ফলের জন্য শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতি নয়, ভাষার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তৈরি করাও জরুরি।

    নিয়মিত ইংরেজি শোনা, বই পড়া, নিজের ভাবনা লিখে রাখা এবং কথা বলার চেষ্টা—এই ছোট ছোট অভ্যাস একসময় বড় দক্ষতায় পরিণত হয়। তাই পরীক্ষার কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস আগে শুরু করা প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রতিদিনের চর্চাকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    তাঁর কাছে আইইএলটিএসে ৯-এ ৯ পাওয়া কেবল একটি পরীক্ষার ফল নয়; বরং ছোটবেলা থেকে তৈরি হওয়া অভ্যাস, নিয়মিত অনুশীলন এবং শেখার আগ্রহের দীর্ঘমেয়াদি ফল।

    সূত্র : প্রথম আলো


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন