নারীর পরিচয় কেবল কন্যা, মা বা স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নারীর পরিচয়কে কেবল কন্যা, মা বা স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। সমাজে নারীর বহুমাত্রিক পরিচয় ও সক্ষমতার স্বীকৃতি দিতে হবে। একই সঙ্গে নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রচলিত সামাজিক ধারণাগুলো নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস আয়োজিত ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, গত কয়েক ঘণ্টার আলোচনায় রাজনীতি, ধর্ম ও জেন্ডার নিয়ে বিভিন্ন ভুল ন্যারেটিভ শুনেছেন তিনি। তিনি বলেন, সবকিছু ধরিয়ে দেওয়া তার কাজ নয়। তবে আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো অংশগ্রহণকারীরা পর্যালোচনা করবেন বলে তিনি আশা করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই, সেখানে সঠিক ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সব শিশুর কাছে মানসম্মত শিক্ষা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পর্যায়ক্রমে মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও কার্যকর সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রান্তিক ও দুর্গম অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, হাওরসহ দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য অবকাঠামো, শিক্ষক উপস্থিতি, আবাসন ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পৃথকভাবে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব এলাকায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামো কেমন হবে, শিক্ষকদের আবাসিক সুবিধা কীভাবে নিশ্চিত করা যায় এবং শিক্ষার মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়—এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় স্যানিটারি সামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহ এবং এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার জন্য পাইলট উদ্যোগ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
লেখক ও উন্নয়নকর্মী নিশাত সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, আন্না মিনজ, নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি ও সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ।