ফেসবুকে লিংক পোস্টে মাসিক ফি, পরীক্ষা শুরু মেটার

ফেসবুক লিংক শেয়ার করার ক্ষেত্রে নতুন ধরনের সীমাবদ্ধতা পরীক্ষার ধাপে নিয়ে এসেছে মেটা। এই পরীক্ষার আওতায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যবহারকারীকে জানানো হয়েছে—সাবস্ক্রিপশন ছাড়া তারা নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি লিংক পোস্ট করতে পারবেন না। এই সাবস্ক্রিপশন ফি রাখা হয়েছে মাসে ৯.৯৯ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১,২২১ টাকা।
মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি সীমিত পরিসরের পরীক্ষা। মূল লক্ষ্য হলো যাচাই করা—সাবস্ক্রিপশন নেওয়া ব্যবহারকারীদের জন্য লিংকসহ বেশি পোস্ট করার সুবিধা আদৌ কতটা কার্যকর এবং এর জন্য অতিরিক্ত মূল্য নিলে কি ব্যবহারকারীরা তা গ্রহণ করবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বিষয়টি আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষক ম্যাট নাভারা মনে করছেন, এটি মেটার আয় বৃদ্ধির নতুন কৌশলের অংশ। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র ভেরিফিকেশন সেবা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না; ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় ফিচারগুলো সাবস্ক্রিপশনের আওতায় আনা হবে। এর ফলে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের জন্য খরচ বাড়তে পারে।
নাভারা জানান, মেটা ইতিমধ্যেই ভেরিফায়েড সেবার মাধ্যমে নীল টিক, উন্নত অ্যাকাউন্ট সাপোর্ট ও ভুয়া পরিচয় থেকে সুরক্ষার মতো সুবিধার জন্য অর্থ নিচ্ছে। এখন সেই ধারাবাহিকতায় কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার এবং অন্য ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারী পাঠানোর মৌলিক সুবিধাগুলোও সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিতে আনা হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, তিনি নিজেও সম্প্রতি ফেসবুক থেকে একটি নোটিফিকেশন পেয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে—১৬ ডিসেম্বর থেকে সাবস্ক্রিপশন ছাড়া মাসে সর্বোচ্চ দুটি লিংক শেয়ার করা যাবে। নাভারা বলছেন, যারা ক্রিয়েটর বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফেসবুককে ট্রাফিক বা গ্রোথের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন, তাদের ভবিষ্যতে এই সুবিধার জন্য অর্থ দিতে হতে পারে। এটি মেটার স্পষ্ট বার্তা।
ফেসবুক জানিয়েছে, এই পরীক্ষা আপাতত ‘প্রফেশনাল মোড’ ব্যবহারকারী ও নির্দিষ্ট কিছু পেজ পরিচালনাকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই ফিচারগুলো মূলত কনটেন্ট প্রচার, দর্শক বিশ্লেষণ ও পারফরম্যান্স ট্র্যাকিংএর কাজে ব্যবহৃত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ ক্রিয়েটরদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ফেসবুক আর আগের মতো নির্ভরযোগ্য ট্রাফিক উৎস নাও হতে পারে। নাভারা বলেন, মেটা সর্বদা নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে, তাই একটি মাত্র প্ল্যাটফর্মের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে টুইটার অধিগ্রহণের পর ইলন মাস্ক ভেরিফিকেশন সেবাকে পেইড মডেলে রূপ দেন, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। পরবর্তীতে মেটাও একই ধরনের ভেরিফিকেশন সেবা চালু করে, যা এখনও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।