বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু বুড়ো বলায় আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে মাটিতে ফেললেন রোনালদো পবিত্র মক্কা শরিফে ড্রোন হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা তালাবদ্ধ কমিউনিটি ক্লিনিক, দেওয়াল টপকে ভেতরে গেলেন এমপি অসদাচরণের অভিযোগে সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ সাময়িক বরখাস্ত একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকায় ১২ প্রকল্প অনুমোদন অপরাধের ধরন বদলালে আইনও পরিবর্তন করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ নারীর পরিচয় কেবল কন্যা, মা বা স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়: ববি হাজ্জাজ এশিয়া গেমসে ব্যাটিং ব্যর্থ হলে বাদ পড়তে পারেন নারী দলের ব্যাটিং কোচ
  • কেন আমরা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে ভয় পাই?

    কেন আমরা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে ভয় পাই?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    শহরের যান্ত্রিক ব্যস্ততা আর হাজারো মানুষের ভিড়ে আমরা প্রতিদিন নিজেদের হারিয়ে ফেলছি। উপরে হাসিমুখ আর ভেতরে একরাশ না বলা কথার পাহাড়—এই বৈপরীত্যই যেন বর্তমান প্রজন্মের জীবনের এক অলিখিত সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে না পারার এই যে মানসিক অবস্থা, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ইমোশনাল সাপ্রেশন’ (Emotional Suppression) বলা হয়, তা কোনো সাধারণ ক্লান্তি নয়; বরং মনের ওপর জেঁকে বসা এক বিশাল পাথরের মতো। শরীরের ক্ষত দেখা যায় বলে মানুষ সান্ত্বনা দেয়, কিন্তু মনের ভেতরের জমে থাকা কথাগুলো অদৃশ্য বলেই তা কেউ দেখতে পায় না।

    হাসির আড়ালে অভিনয়ের জীবন

    মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, যখন মানুষের মানসিক কষ্ট ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তখন স্বাভাবিক হাসিটাও একসময় নিছক অভিনয় মনে হয়। অনেকেই মনের কথা প্রকাশ করেন না মূলত দুটি কারণে— প্রথমত, "কেউ আমাকে বুঝবে না" এই সংশয় এবং দ্বিতীয়ত, "লোকে কী ভাববে" বা বিচার (Judge) করার ভয়। এই সামাজিক ভয় আমাদের আরও বেশি নীরব করে দেয় এবং ধীরে ধীরে আমরা প্রিয় মানুষগুলোর কাছ থেকেও দূরত্ব তৈরি করি। পাশে কেউ থাকলেও মনে হয়, এক বিশাল শূন্যতার মাঝে একা দাঁড়িয়ে আছি।

    অভ্যাস যখন নীরব ঘাতক

    অনুভূতি চেপে রাখা যখন অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন তা কেবল মানসিক নয়, শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা কথাগুলো মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীরবতাকে সঙ্গী করে নেওয়া ভালো, কিন্তু সেই নীরবতা যেন আপনাকে আত্মহননের পথে বা দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতার দিকে ঠেলে না দেয়।

    মুক্তির পথ:

    মনের ভার কমানোর জন্য কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর পরামর্শ :

    • লিখন থেরাপি: যদি কাউকে বলতে দ্বিধা হয়, তবে ডায়েরিতে সব লিখে ফেলুন। কলমের ডগায় যখন কষ্টের কথাগুলো উঠে আসে, তখন বুকটা আশ্চর্যজনকভাবে হালকা লাগে।

    • ক্ষুদ্র শুরু: সব কথা একসাথে বলতে হবে না। খুব বিশ্বস্ত কাউকে অন্তত এটুকুই বলুন যে, "আজ আমার মনটা ভালো নেই।" এই ছোট স্বীকারোক্তিই হতে পারে এক বিশাল মানসিক মুক্তির শুরু।

    • সঠিক সময়ের অপেক্ষা: পৃথিবীতে আপনার মনের জমানো সব কথা শোনার মতো মানুষ হয়তো আছে। শুধু প্রয়োজন সঠিক সময় আর সঠিক মানুষটিকে চিনে নেওয়ার ধৈর্য।

    বুক চিরে আর্তনাদ করতে না পারা মানুষগুলোই আধুনিক সমাজের সবচেয়ে বড় সংগ্রামী। তবে মনে রাখা জরুরি, পাথর সরিয়ে শ্বাস নিতে শেখাটাই জীবনের ধর্ম। আপনার জীবনের সেই না বলা গল্পগুলো হয়তো অন্য কারো জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে, যদি সঠিক উপায়ে তা প্রকাশ পায়।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ