বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • অপরাধের ধরন বদলালে আইনও পরিবর্তন করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ নারীর পরিচয় কেবল কন্যা, মা বা স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়: ববি হাজ্জাজ এশিয়া গেমসে ব্যাটিং ব্যর্থ হলে বাদ পড়তে পারেন নারী দলের ব্যাটিং কোচ ৩ অক্টোবর থেকে মাঠে গড়াচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেট, শুরু এনসিএল দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনে সহায়তার আশ্বাস জার্মান রাষ্ট্রদূতের যে হত্যার রহস্য আজও ঘিরে আছে আমেরিকাকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা বাড়াতে চায় ডেনমার্ক মক্কায় হামলার নিন্দা জানানো নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব: শফিকুর রহমান র‍্যাব বিলুপ্ত, নতুন নামে যাত্রা শুরু এসআরবির
  • ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থের বর্তমান রূপ: তাওরাত না কিছু ভিন্ন?

    ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থের বর্তমান রূপ: তাওরাত না কিছু ভিন্ন?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ইহুদিরা নিজেদের হযরত মূসা (আ.)-এর অনুসারী হিসেবে দাবি করে এবং বিশ্বাস করে যে, আখেরাতে জান্নাত শুধু তাদের জন্যই নির্ধারিত। তারা বলে, তাদের ধর্মগ্রন্থই সেই তাওরাত, যা সিনাই পর্বতে আল্লাহ তাআলা মূসা (আ.)-এর ওপর নাজিল করেছিলেন। তবে প্রশ্ন হলো—আজকের দিনে তারা আদৌ কি সেই আসল তাওরাত অনুসরণ করছে, নাকি পরবর্তীকালে রচিত ও সংকলিত তালমুদকেই তাদের ধর্মীয় পথনির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করেছে?

    ইসলামি দৃষ্টিকোণ ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ বলছে, ইহুদিরা সেই আসমানি তাওরাত থেকে অনেক আগেই বিচ্যুত হয়েছে। কুরআনের ভাষায়, তারা আল্লাহর বাণী শুনে জেনে-বুঝে বিকৃত করেছে। সূরা বাকারা ও সূরা মায়িদার আয়াতগুলোয় আল্লাহ তাআলা তাদের এই বিকৃতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি সহীহ বুখারীর একটি হাদীসে পাওয়া যায়, এক ইহুদি দম্পতির ব্যভিচারের ঘটনায় তারা নিজেদের তাওরাতে থাকা রাজমের নির্দেশ লুকাতে চেয়েছিল।

    আসমানি কিতাব তাওরাত ছিল বনী ইসরাঈলকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য নাজিলকৃত এক পথনির্দেশ। মূলত এটি ছিল হিব্রু ভাষায় রচিত, যার অর্থ "দিকনির্দেশনা" বা "আইন"। বর্তমান ইহুদিরা যাকে “তোরা” বলে মানে, সেটি আসল তাওরাত নয়—বরং বহু শতাব্দী পর সংকলিত পঞ্চপুস্তকের একটি রূপ। এই পাঁচটি গ্রন্থ হলো—বেরেশীত (আদি পুস্তক), সেমত (যাত্রা), ভাইকরা (লেবীয়ক), বামিদবার (গণনা), এবং দেভারিম (দ্বিতীয় বিবরণ)। ইতিহাসবিদদের মতে, এই বইগুলো মূসা (আ.)-এর মৃত্যুর প্রায় ১,১০০ বছর পর রচিত হয়, অর্থাৎ ঈসা (আ.)-এর আগমনের প্রায় ৪৪৪ বছর আগে।

    এখনকার ইহুদিরা শুধু এই বিকৃত তাওরাত নয়, বরং “তালমুদ” নামে আরেকটি গ্রন্থকেও তাদের ধর্মীয় বিধানের ভিত্তি হিসেবে মানে। তালমুদ আসলে বিভিন্ন ইহুদি পণ্ডিতের মতামত, ব্যাখ্যা, ও বিচারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সংকলন, যার দুটি সংস্করণ আছে—*বাবলি তালমুদ (ব্যাবিলন)* এবং *ইরুশালমি তালমুদ (জেরুজালেম)*। যদিও ইহুদিরা বলে এটি তাওরাতের ব্যাখ্যা, বাস্তবে এতে রয়েছে বহু কল্পকাহিনী ও ধর্মবিরোধী ধারণা। উদাহরণস্বরূপ, সেখানে এমন দাবিও করা হয়েছে যে, “হযরত ইয়াকুব (আ.) একবার আল্লাহর সঙ্গে মল্লযুদ্ধে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন”—নাউযুবিল্লাহ!

    আজকের ইহুদি সমাজ মুখে বলে তারা মূসা (আ.)-এর অনুসারী, কিন্তু বাস্তবে তারা তার শিক্ষা ও আদর্শ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত। তারা তাওরাত বিকৃত করেছে, নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে অস্বীকার করেছে, আর নিজেদের বানানো তালমুদকেই এখন “পবিত্র কিতাব” হিসেবে মানছে।

    তাদের এই আত্মপ্রবঞ্চনা ও বিকৃত বিশ্বাস প্রমাণ করে, প্রকৃত তাওরাত আজ আর তাদের কাছে নেই। যে কিতাব আজও বিকৃতি থেকে অক্ষত, সেটি একমাত্র আল-কুরআন—আর সত্য নবীর অনুসরণ কেবল নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পথেই সম্ভব। যাদের অন্তরে আল্লাহভীতি নেই, তারা কখনোই হেদায়াতের পথে ফিরে আসবে না—এটাই চূড়ান্ত বাস্তবতা।


    দৈএনকে/ জে,আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ