শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১,২৯৭ হামের চিকিৎসায় মহাখালী হাসপাতাল, নেই পিআইসিইউ-এনআইসিইউ; সংকটে সেবাব্যবস্থা হামজা-শামিতসহ ৯ প্রবাসী, আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ২৩ সদস্যের দল পাকিস্তানে মসজিদের গেটে গাড়িবোমা, নিহত ১৬ ‘না’ ভোট না দেওয়ায় একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী মালিবাগে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের পাশে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ডাসারে সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি খোকন যাত্রাবিরতিতে ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, বিমানবন্দরে স্বাগত কারাগারের বদলে বাড়িতেই সাজা ভোগ করবেন নাজিব রাজাক চ্যাটবটকে যা বলবেন না, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় থাকুন সতর্ক
  • গভীর সমুদ্রে গবেষণায় নতুন উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার

    গভীর সমুদ্রে গবেষণায় নতুন উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    গবেষণা জাহাজ আর ভি ডি. ফ্রিডটজফ নানসেন কর্তৃক পরিচালিত সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম সংক্রান্ত জরিপের ফলাফল রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালেই এই বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে আটটি দেশ থেকে ২৫ জন বিজ্ঞানী অংশ নেন, যার মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি। অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বৈঠকে জানান, এই গবেষণায় নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। তিনি সতর্ক করেন, বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে জেলি ফিশের সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে গেছে, যা ওভারফিশিংয়ের কারণে ইকোসিস্টেমের ভারসাম্যহীনতার চিহ্ন।

    তাছাড়া, দুই হাজার মিটার গভীরে প্লাস্টিক দূষণ পাওয়া গেছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। ২০১৮ সালের গবেষণার তুলনায় দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা কমছে। স্বল্প গভীরে মাছের প্রাচুর্যও হ্রাস পাচ্ছে, কারণ ২৭০–২৮০টি বড় ফিশিং ট্রলার গভীর সমুদ্রে কার্যক্রম চালাচ্ছে, যার মধ্যে ৭০টি টার্গেটেড সোনার ফিশিং করছে। মৎস্য উপদেষ্টা সতর্ক করেছেন, এই পদ্ধতি অব্যাহত থাকলে বঙ্গোপসাগরের মৎস্য সম্পদ ঝুঁকিতে পড়বে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ডিপ সি ফিশিং অঞ্চলে টুনা মাছের সম্ভাবনা বেশি, এবং সুন্দরবনের নিচে একটি ফিশিং নার্সারি পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণের জন্য ইতিমধ্যেই সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন, আমাদের দেশের স্থলভাগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জলভাগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই সম্পদগুলো আমরা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন, গবেষণা ও নীতি-সমর্থন ছাড়া এটি সম্ভব নয়।

    এছাড়া বৈঠকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশেনোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল HMS এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভেসেলটি সমুদ্রের তলদেশ, গভীরতা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    প্রধান উপদেষ্টা জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে, বিশেষজ্ঞদের সাথে সমন্বয় করতে হবে। এর মাধ্যমে আমরা অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা ও সামুদ্রিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারব।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন