বিশ্বকাপের লক্ষ্য সামনে রেখে ওয়ানডেতে ফিরছে বাংলাদেশ

চার মাসেরও বেশি সময় পর ওয়ানডে ফরম্যাটে আবার রঙিন পোশাকে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বছরের প্রথম ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।
২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেই আসরে সরাসরি জায়গা করে নিতে হলে এখন থেকেই প্রতিটি ম্যাচে ভালো ফল করা জরুরি বাংলাদেশের জন্য। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও বিষয়টি ভালোভাবেই উপলব্ধি করছেন।
মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, ‘এ বছর আমাদের অনেক ওয়ানডে ম্যাচ রয়েছে। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের পর আমরা খুব বেশি ওয়ানডে খেলিনি। মাঝে দীর্ঘ বিরতি থাকায় ছন্দে ফিরতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে এবার যেহেতু ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ রয়েছে, তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোনো সহজ হবে। এখানে র্যাঙ্কিংয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য সমান গুরুত্ব বহন করে।’
দলের পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটে আগে আমাদের নির্দিষ্ট একটি ধারা ছিল। অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলায় তারা বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতেন। এখন সেই সিনিয়ররা নেই। তাই বর্তমান দলের ক্রিকেটারদেরই দায়িত্ব নিতে হবে এবং প্রতিটি পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।’
ব্যাটারদের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে মিরাজ আরও বলেন, ‘এই সিরিজে ব্যাটারদের বড় ভূমিকা রাখতে হবে। ওয়ানডে এমন একটি ফরম্যাট যেখানে প্রতিটি পরিস্থিতি সামলানো এবং বিভিন্ন পজিশনে কীভাবে খেলতে হবে তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের পথচলা এখন থেকেই শুরু হচ্ছে। তাই আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই এবং ম্যাচ বাই ম্যাচ পরিকল্পনা করতে চাই।’
অন্যদিকে পাকিস্তান দলও এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে। তাদের দলে রয়েছে ছয়জন নতুন ক্রিকেটার, যাদের মধ্যে অন্তত তিনজনের আজ অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে তরুণ দল হলেও পাকিস্তানকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো দলকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। পাকিস্তানের দলে নতুন অনেক ক্রিকেটার এসেছে এবং তারা নিজেদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই সুযোগ পেয়েছে। তবে আমরা নিজেদের মাঠে খেলছি এবং কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে।’
এদিকে পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদিও প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সম্মান জানিয়ে বলেন, ‘প্রতিটি দলই নিজেদের মাঠে শক্তিশালী। বাংলাদেশ ঘরের মাঠে ভালো ক্রিকেট খেলেছে এবং সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে। তবে আমরাও প্রস্তুত এবং আমাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে চাই।’
পরিসংখ্যান বলছে, দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে পাকিস্তান বেশ এগিয়ে। এখন পর্যন্ত ৩৯টি ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে ৩৪টি এবং বাংলাদেশ জিতেছে ৫টি ম্যাচে।
তবে বাংলাদেশের জন্য আশার বিষয় হলো, এই পাঁচ জয়ের মধ্যে চারটিই এসেছে ঘরের মাঠে। বিশেষ করে ২০১৫ সালে নিজেদের মাঠে পাকিস্তানকে ৩–০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার স্মৃতিও রয়েছে টাইগারদের।