বিশ্বকাপ খেলা কি দেখা যাবে টিভিতে? অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ ফুটবলকে বলা হয় ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হওয়া এই মহাযজ্ঞ ঘিরে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মধ্যে তৈরি হয় উন্মাদনা। কেউ স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সুযোগ পান, আবার অধিকাংশ দর্শকের ভরসা টেলিভিশন সম্প্রচার।
তবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে এবার বাংলাদেশে সম্প্রচার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও কিছু সময় বাকি থাকলেও টিভি ও ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে জটিলতায় পড়েছে দেশের সম্প্রচারমাধ্যমগুলো।
ফিফার অন্যতম বড় আয়ের উৎস হলো বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি। বিভিন্ন অঞ্চল ও দেশের জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠানের কাছে এই স্বত্ব বিক্রি করা হয়। পরে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের টেলিভিশন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কাছে স্বত্ব হস্তান্তর করে।
বাংলাদেশের টিভি ও ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবক’। তবে তারা বাংলাদেশে এই স্বত্ব প্রায় ২০০ কোটি টাকায় বিক্রি করতে চাচ্ছে, যার মধ্যে ভ্যাট ও ট্যাক্সও অন্তর্ভুক্ত। এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না দেশের কোনো টিভি চ্যানেল।
দেশের একমাত্র ক্রীড়া চ্যানেল টি স্পোর্টসের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আলোচনা করা হলেও চুক্তি হয়নি। সম্প্রতি সম্প্রচার শুরু করা স্টার নিউজও আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু উচ্চমূল্য, বিজ্ঞাপন বাজারের সীমাবদ্ধতা এবং অনেক ম্যাচ গভীর রাত বা ভোরে হওয়ায় সম্ভাব্য দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় কেউই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে টি স্পোর্টস, জিটিভি এবং বিটিভিতে খেলা সম্প্রচার হয়েছিল। তখন বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান তমা কন্সট্রাকশন টিভি স্বত্ব কিনে বিটিভির কাছে বিক্রি করেছিল। তবে অতিরিক্ত মূল্যে সেই চুক্তি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল।
এবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ, ফিফা এখন আর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বিনামূল্যে টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার স্বত্ব দেয় না। ফলে সরকারি চ্যানেলগুলোকেও আলাদাভাবে স্বত্ব কিনতে হয়।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিশ্চিত করতে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে ক্রীড়া বিপণন বিশেষজ্ঞ ও বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এবার যারা এই অঞ্চলের স্বত্ব কিনেছে, তারা অত্যধিক দামে বিক্রি করতে চাইছে। ফলে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোর জন্য এটি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এরপরও দেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা—সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে, কিংবা যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে হলেও যেন বিশ্বকাপের খেলা সম্প্রচার নিশ্চিত করা হয়।