‘আরিরাং’ নিয়ে ভিন্নমাত্রার প্রত্যাবর্তনে বিটিএস

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বিশ্ব সংগীত অঙ্গনে সরব হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। নতুন অ্যালবাম প্রকাশকে ঘিরে সদস্যদের প্রত্যাবর্তন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংগীত সাময়িকী রোলিং স্টোনের মে সংখ্যায় প্রকাশিত বিশেষ সাক্ষাৎকারে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, অ্যালবাম প্রস্তুতির সময় মানসিক চাপ, আত্মজিজ্ঞাসা ও সৃজনশীল দ্বন্দ্বে ভুগেছেন দলের সদস্যরা। বিশেষ করে দলের নেতা আরএম জানান, সামরিক জীবনের পর ফেরার অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে এবং সংগীত ও দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তায় আছেন।
তিনি বলেন, নতুন অ্যালবাম তাদের শেকড়ে ফিরে যাওয়ার একটি প্রচেষ্টা হলেও তা একদিকে যেমন উত্তেজনাপূর্ণ, অন্যদিকে তেমনি চাপেরও। একই সঙ্গে তিনি জানান, অতীতের জনপ্রিয়তার সীমা ছাড়িয়ে আরও নতুন কিছু করার তাগিদ এখনো দলের মধ্যে প্রবল।
অন্যদিকে সদস্য জে-হোপ, জিন, সুগা, জিমিন, ভি ও জাংকুক নিজেদের একক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, সামরিক দায়িত্ব পালন এবং একক ক্যারিয়ার তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও পরিণত করেছে। তারা প্রত্যেকে জানান, দল ছাড়া নিজেদের অস্তিত্ব কল্পনা করা এখনো কঠিন।
সাক্ষাৎকারে উঠে আসে বিটিএসের নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’ ঘিরে দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কথা। প্রযোজক পিডগ জানান, এই অ্যালবামে হিপ-হপ শেকড় বজায় রেখেই আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় সংগীতধারা যুক্ত করা হয়েছে।

রেকর্ডিং প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ায় দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করেছেন সদস্যরা। প্রযোজক ডিপ্লোসহ আন্তর্জাতিক সংগীতজ্ঞদের সঙ্গেও তারা কাজ করেন বলে জানা যায়।
সাক্ষাৎকারে সদস্যরা আরও বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এখন তারা নিজেদের কাজ উপভোগ করতে চান এবং অতিরিক্ত চাপের পরিবর্তে সৃজনশীল স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা ও সাফল্যের মধ্যেও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি বিটিএস। তবে নতুন অ্যালবামকে তারা দেখছেন নতুন সূচনা হিসেবে, যা তাদের পুরোনো এনার্জি ও শেকড়কে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনছে।
রোলিং স্টোনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিটিএস এখন এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে তারা একদিকে অতীতের সফলতা ধরে রাখতে চাইছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের সংগীতে নতুন দিক অনুসন্ধান করছে।
দৈএনকে/জে, আ