দলকে জিতিয়েও কাঁদলেন মেসি, ম্যাচ শেষে জানালেন আবেগের গল্প

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম নাটকীয় ম্যাচে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। একসময় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও লিওনেল মেসির অনুপ্রেরণায় ৩-২ ব্যবধানে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিশর। মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বে দ্রুতগতির আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণ বারবার চাপে পড়ে। প্রথমার্ধে জিকোর গোলে এগিয়ে যায় মিশর। এরপর সালাহর দারুণ এক দৌড় ও নিখুঁত পাস থেকে আবারও গোল করে জিকো, ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি।
এর আগে একবার আর্জেন্টিনার জালে বল জড়ালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্তে ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দুর্দান্ত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। এরপর বক্সের ভেতরে ফিরতি বল থেকে নিজের শটে গোল করে ২-২ সমতা ফেরান অধিনায়ক মেসি। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার টানা ম্যাচে গোল করার ধারাবাহিকতা।
নির্ধারিত সময়ে সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে লাউতারো মার্টিনেজের নিখুঁত ক্রসে হেডে জয়সূচক গোল করেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
এই জয়টি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, নকআউট পর্বে এর আগে কখনো দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে জয় পায়নি দলটি।
ম্যাচ শেষে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি লিওনেল মেসি। পেনাল্টি মিস করায় হতাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুরুতে সুযোগ নষ্ট করার কারণে নিজের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ ছিলেন।
মেসি বলেন, "পেনাল্টি মিস করার পর মনে হয়েছিল আমি দলকে হতাশ করেছি। শটটি ঠিকভাবে নিতে পারিনি। কিন্তু পরে সমতাসূচক গোল করতে পেরে স্বস্তি পেয়েছি। দিনের শেষে মনে হয়েছে ঈশ্বর আমার জন্য ভালো কিছুই লিখে রেখেছিলেন।"
তিনি আরও বলেন, "যদি পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের চিত্র আরও আগেই বদলে যেত। আমরা শুরু থেকেই ভালো খেলছিলাম এবং একাধিক সুযোগও তৈরি করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত।"

নাটকীয় এই জয়ের মাধ্যমে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। টানা দ্বিতীয় নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে ফিরে আসতে হয়েছে দলটিকে। তবে মেসির নেতৃত্বে অসম্ভবকে সম্ভব করার আরেকটি উদাহরণ দেখল ফুটবল বিশ্ব।