বিশ্বকাপ ফাইনালে নতুন ইতিহাস, বিরতিতে মাতাবেন বিশ্বসেরা সংগীত তারকারা

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল বরাবরই কোটি কোটি দর্শকের নজর কাড়ে। তবে ২০২৬ সালের আসরে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি আরও বিশেষ হয়ে উঠছে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের কারণে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরতিতে অনুষ্ঠিত হবে সুপার বোলের আদলে বিশেষ হাফটাইম শো, যেখানে পারফর্ম করবেন বিশ্বের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীরা। খবর আল-জাজিরার।
আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে দিবাগত রাত ১টায়। ম্যাচের প্রায় ১১ মিনিটের বিরতিকে ঘিরেই সাজানো হয়েছে এই বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম।
ফিফা জানিয়েছে, এত বড় পরিসরে ফাইনালের বিরতিতে সংগীত পরিবেশনের উদ্যোগ আগে কখনো নেওয়া হয়নি। বুধবার (৮ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্পীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পুরো আয়োজনের সৃজনশীল পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন।
এই জমকালো মঞ্চে পারফর্ম করবেন কানাডিয়ান পপ তারকা জাস্টিন বিবার, লাতিন সংগীতশিল্পী শাকিরা, কিংবদন্তি গায়িকা ম্যাডোনা, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস, নাইজেরিয়ার আফ্রোবিট তারকা বার্না বয়, বিশ্বখ্যাত অর্কেস্ট্রা কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেল, নিউইয়র্কের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত পিএস২২ কোরাস এবং কোল্ডপ্লে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘দাই দাই’ পরিবেশনের সম্ভাবনাও রয়েছে। গানটিতে শাকিরার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বার্না বয়।
এই আয়োজন কেবল বিনোদনের জন্য নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি মানবিক উদ্যোগও। হাফটাইম শো থেকে পাওয়া সহায়তা যাবে ফিফার গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে। বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণে ১০ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রকল্পটি।
এ উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জাস্টিন বিবার। তার ভাষায়, বিশ্বকাপ এমন একটি মঞ্চ, যা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। একই সঙ্গে শিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করা এমন উদ্যোগের অংশ হতে পারাও তার জন্য গর্বের।
দর্শকদের বিনোদনকে আরও বৈচিত্র্যময় করতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে সিসেমি স্ট্রিটের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর পাশাপাশি কারমিট দ্য ফ্রগ ও মিস পিগি। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই আয়োজনকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিনোদনমূলক মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার আশা, বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি দর্শক এই ঐতিহাসিক হাফটাইম শো উপভোগ করবেন।