হালান্ড ঠেকানোর কৌশলে ইংল্যান্ডের তুরুপের তাস ড্যান বার্ন

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডকে মোকাবিলা করতে বিশেষ পরিকল্পনা সাজাচ্ছে ইংল্যান্ড। সেই পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার ডিফেন্ডার ড্যান বার্ন। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলা হালান্ডের বিপক্ষে ক্লাব ফুটবলে বার্নের পরিসংখ্যান ইংলিশ শিবিরকে দিচ্ছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস।
নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই সেন্টার-ব্যাককে বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত শুরুতে অনেককেই অবাক করেছিল। ২০২৫ সালের মার্চে ৩৩তম জন্মদিনের ঠিক আগে ইংল্যান্ডের জার্সিতে অভিষেক হয় তার। এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে চারটি ম্যাচের সবগুলোতেই শুরুর একাদশে ছিলেন, যদিও সেগুলো ছিল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন বার্ন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর শেষ ১৫ মিনিটে একের পর এক ক্রস ক্লিয়ার করে ৩-২ ব্যবধানের লিড ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। অতিরিক্ত সময়েও ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক।
হালান্ডের মতো দ্রুতগতির না হলেও শারীরিক লড়াইয়ে বার্নের দক্ষতা অনন্য। নরওয়ের এই স্ট্রাইকারের চেয়ে তিনি বয়সে ৯ বছর বড় এবং উচ্চতায়ও দুই ইঞ্চি এগিয়ে। সবচেয়ে বড় বিষয়, ক্লাব ফুটবলে হালান্ডকে সামলানোর অভিজ্ঞতা তার রয়েছে।
ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে বার্নের বিপক্ষে আটটি ম্যাচ খেলেছেন হালান্ড। ছয়টি প্রিমিয়ার লিগে এবং দুটি এফএ কাপ ও লিগ কাপে। ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় মুখোমুখি লড়াইয়ে বার্নের বিপক্ষে হালান্ডের গোল মাত্র একটি, সেটিও ২০২২ সালের আগস্টে প্রথম সাক্ষাতে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে গড়ে প্রতি ৭৩ মিনিটে একটি করে গোল করা হালান্ডের মতো ফরোয়ার্ডের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে ইংল্যান্ডের জন্য ইতিবাচক। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে তাকে ঠেকানোর দায়িত্বে ড্যান বার্নকেই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হিসেবে ভাবছেন কোচ থমাস টুখেল।
শুধু বার্নই নন, ইংল্যান্ডের আরেক ডিফেন্ডার এজরি কনসার বিপক্ষেও হালান্ডের রেকর্ড খুব একটা উজ্জ্বল নয়। পাঁচ ম্যাচে ৪০৬ মিনিট খেলেও তিনি গোল করতে পেরেছেন মাত্র একবার, সেটিও প্রথম সাক্ষাতে।
অন্যদিকে মার্ক গুয়েহির বিপক্ষে চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ক্রিস্টাল প্যালেসে থাকাকালে গুয়েহির বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচে সাতবার জালের দেখা পেয়েছিলেন হালান্ড। তবে বর্তমানে দুজনই ম্যানচেস্টার সিটির সতীর্থ হওয়ায় সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আপাতত অতীত।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে চার মৌসুমে ১৩২টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে ১১২ গোল করেছেন হালান্ড। জিতেছেন টানা তিনটি গোল্ডেন বুটও। এমন ভয়ংকর এক গোলমেশিনকে থামাতে ইংল্যান্ডকে নিখুঁত রক্ষণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। আর সেই পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম হতে পারেন ড্যান বার্ন।