শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • নওগাঁর মান্দায় ৪টি বিগ ক্যান্টিলিভার স্থাপন, সহজ হবে চলাচল বুকে ব্যথার সঙ্গে যে ৫ লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি জঙ্গি কার্যক্রমের সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনের ৩ দিনের রিমান্ড প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে শক্তিশালী ইন্টারনেট প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু গ্রিনল্যান্ডে বড় সামরিক উপস্থিতির চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্কের মধ্যনগরে ২০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক দ্বিতীয় বিয়ের প্রথম বার্ষিকীতে শবনম ফারিয়ার আবেগঘন পোস্ট পুরুষদের পিরিয়ড হলে ‘পিরিয়ড লিভ’ থাকত: শ্রুতি হাসান সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সমন্বিত কাঠামোয় আনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • গ্রিনল্যান্ডে বড় সামরিক উপস্থিতির চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্কের

    গ্রিনল্যান্ডে বড় সামরিক উপস্থিতির চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্কের
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    গ্রিনল্যান্ডে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলো যাতে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে না পারে, সেই ব্যবস্থাও চুক্তিতে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

    শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া কোনো শত্রু রাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে স্পর্শকাতর বিনিয়োগ করতে পারবে না। তাঁর দাবি, চুক্তিটির কোনো মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখও নেই।

    ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমার নির্দেশনায় আমরা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করেছি, যাতে নিশ্চিত করা যায়—গ্রিনল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষার জন্য যা প্রয়োজন, তা করার পূর্ণ সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের থাকবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি স্বপ্নপূরণের মতো ঘটনা।’

    এর আগে শুক্রবার রয়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এই চুক্তি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পর্যায়ে যাবে না।

    গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ১৯৫১ সালের একটি চুক্তির কারণে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল ও সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই ব্যাপক অধিকার রয়েছে।

    ট্রাম্পের ঘোষণা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনার ফলাফলে তিনি সন্তুষ্ট। অন্তত অদূর ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডগত দাবি নতুন করে তোলার সম্ভাবনাও এতে কিছুটা কমে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু বলেননি।

    তিনি জানান, খুব শিগগিরই গ্রিনল্যান্ডে বড় ধরনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে দ্বীপটির প্রত্যন্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পেস ফোর্স ঘাঁটি রয়েছে।

    চুক্তির পরিধি এখনো স্পষ্ট নয়

    ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, নতুন চুক্তি উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করবে।

    গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন এক বিবৃতিতে বলেন, চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আর্কটিক দ্বীপটির অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের সবার জন্য উপকারী।’

    তবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত চুক্তির বেশ কিছু বিষয় স্পষ্ট হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে—চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ডে নতুন কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে কি না। ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর পোস্টে আলোচনার বিস্তারিত বা চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত অনেক সময় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকে না।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে আটলান্টিক কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত ইমরান বায়োমি বলেন, গ্রিনল্যান্ড বা ডেনমার্কের অনুমোদন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ঘাঁটি নির্মাণ করতে পারবে—এমন সুযোগ তৈরি হলে সেটি নতুন বিষয় হবে।

    তবে তাঁর মতে, বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ন্যাটো সম্পর্কের ওপর চাপ না দিয়ে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেও ওয়াশিংটন এসব লক্ষ্য অর্জন করতে পারত।

    চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডে কীভাবে গ্রহণ করা হবে, সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। একই সঙ্গে দ্বীপটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও সেখানে প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

    ‘প্রতিপক্ষদের ঠেকানো হবে’: রুবিও

    আলাদা এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ ‘স্থায়ীভাবে ও সম্পূর্ণভাবে’ সমাধান করেছে।

    তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড চিরকাল উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এলাকার অংশ থাকবে এবং কোনো প্রতিপক্ষকে গ্রিনল্যান্ড ও এর আশপাশের এলাকায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।’

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা চুক্তির নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সম্পর্কে জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যাটোর সদস্য নয়—এমন কোনো দেশকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো ছাড়া অন্যদের নির্দিষ্ট কিছু ‘স্পর্শকাতর বিনিয়োগ’ করার সুযোগ থাকবে না।

    ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ীভাবে গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশ, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার পাবে। এমনকি ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হয়ে গেলেও চুক্তির এসব অধিকার কার্যকর থাকবে।

    তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত এবং এর বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন