রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অধ্যাদেশে সংশোধন হাইকোর্টে জামিনের পর আদালতে জামিননামা দিলেন এমপি গাজী নজরুল আইইএলটিএসে ৯-এ ৯ পাওয়ার পেছনের গল্প জানালেন ঢাবির রাইসা শাম্মা শেফালির একার রানও করতে পারল না বাংলাদেশ, ১১৪ রানের হার উপকূলের তেল-গ্যাস উত্তোলনে ইতালির বিনিয়োগ চাইলেন স্পিকার আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ সম্পত্তি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত চাইলেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী অপ্রতিম হত্যা: ১২ ঘণ্টায় চারজন গ্রেপ্তার, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাইভেট কারের নিচে মিলল ৮৯ হাজার ৪০০ ইয়াবা, আটক ১ আজ ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’: যে মানুষটির অবদান অনেক সময় চোখেই পড়ে না
  • গণভোটের ম্যান্ডেট পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন গ্রহণযোগ্য নয়: ১১ দল

    গণভোটের ম্যান্ডেট পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন গ্রহণযোগ্য নয়: ১১ দল
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    গণভোটে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত এবং গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে জোটটি।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। বিএনপি সরকারের উদ্যোগে জাতীয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক সংস্কার এবং তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে ওই গণভোটে জনগণের মতামত নেওয়া হয়। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে বলে দাবি করে জোটটি।

    ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ শুধু কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানাননি; সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানকেও অনুমোদন দিয়েছেন। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।

    তাদের দাবি, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও কার্যক্রম শুরুর পরিবর্তে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের সরাসরি দেওয়া সাংবিধানিক ম্যান্ডেট পাশ কাটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটটির বক্তব্য, জনগণের ম্যান্ডেটের বিকল্প কোনো সংসদীয় বিশেষ কমিটি হতে পারে না।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ জাতীয় সংসদকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দিলেও সেই ক্ষমতা সীমাহীন নয়। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে প্রতিষ্ঠিত নীতিও বিবেচনায় নিতে হবে বলে মনে করে জোটটি।

    তাদের দাবি, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে তা নিয়ে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

    জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

    ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার কার্যকর করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এ ছাড়া নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়ে পরিষদ কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।

    জনগণের ভোটে প্রকাশিত সাংবিধানিক ম্যান্ডেটকে সম্মান এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন