শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • তাহিরপুরে তিন সন্তানকে বিষ খাওয়ানোর পর বাবার বিষপান, নিহত ৩ এক ম্যাচে ৫ ছক্কা, মিরাজের দারুণ সিপিএল যাত্রার শেষ হতাশায় মেসির বিদায়ী ম্যাচসহ আর্জেন্টিনার তিন প্রীতি ম্যাচ ‘টপ-লেভেল’ স্বীকৃতি পেল হাইকোর্টে রিট নিষ্পত্তি বেড়েছে, কমছে বিচারাধীন মামলাও কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হত্যাকারী যে-ই হোক, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে রেহাই নয়’,স্বজনদের হুঁশিয়ারি। ২২ বছর বয়সেই দ্বিতীয় সন্তানের মা হলেন মিলি ববি ব্রাউন দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম বাহরাইনে বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ রিয়াদে ভোরে বিস্ফোরণের শব্দ, বিমান হামলার সতর্কতা জারি
  • হাইকোর্টে রিট নিষ্পত্তি বেড়েছে, কমছে বিচারাধীন মামলাও

    হাইকোর্টে রিট নিষ্পত্তি বেড়েছে, কমছে বিচারাধীন মামলাও
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলতি বছরে নতুন রিট মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নতুন রিটের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

    আদালতে বিচারিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে এবং ব্যক্তিস্বার্থ বা ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়গুলোতে রিট মামলা করার প্রবণতা কমানো গেলে মামলার চাপ আরও কমবে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে তিনি বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আদালতে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছেন। বিচারিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে রিট মামলার সংখ্যাও কমে আসবে। তাঁর মতে, আদালতে শৃঙ্খলা থাকলে মানুষ প্রকৃত ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ বেশি পায়।

    সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০টি।

    জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রথম তিন মাসে হাইকোর্টে নতুন রিট মামলা দায়ের হয় ৪ হাজার ১১২টি। একই সময়ে নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ২১৩টি রিট মামলা।

    এরপর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত তিন মাসে নতুন রিট মামলা দায়ের হয় ৪ হাজার ৭২৯টি। বিপরীতে এ সময়ে নিষ্পত্তি হয় ৯ হাজার ৫৯০টি মামলা। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে নতুন রিট মামলার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

    ফলে জুনের শেষে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৯টিতে।

    ব্যক্তিস্বার্থে রিট নিয়ে প্রশ্ন

    হাইকোর্টে লক্ষাধিক রিট মামলা বিচারাধীন থাকার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন বা জনস্বার্থ মামলার নামে ব্যক্তিস্বার্থে রিট করা হয়। তাঁর মতে, এসব মামলার কিছু ক্ষেত্রে আত্মপ্রচারের প্রবণতাও দেখা যায়।

    তিনি বলেন, অনেকেই রিট মামলা দায়ের করার পরপরই গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।

    অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় হাইকোর্টের জন্য বাধ্যতামূলক। আপিল বিভাগ বিভিন্ন রায়ে ইতোমধ্যে নির্ধারণ করে দিয়েছেন, কোন ধরনের বিষয়ে হাইকোর্ট রিট গ্রহণ করতে পারেন এবং কোন ক্ষেত্রে পারেন না।

    তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রাইভেট ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন করা যায় না—এমন অবস্থান সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ে রয়েছে। এরপরও সময়ে সময়ে বিভিন্ন হাইকোর্ট বেঞ্চে বেসরকারি ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট গ্রহণ ও আদেশ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এতে বিচারিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। এই জায়গায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা গেলে রিট মামলার সংখ্যা কমবে।

    ব্যক্তিগত বিরোধেও সরাসরি রিট

    ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়েও সরাসরি হাইকোর্টে রিট করার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

    তিনি বলেন, জমি দখল, জমির সীমানা, বিল-বাঁওড়সহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিরোধ নিয়ে সরাসরি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হচ্ছে। অথচ এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিম্ন আদালতে গিয়ে প্রতিকার চাইতে হয়।

    প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি হাইকোর্টে এসব মামলা করা হলে রিট মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সংবিধানে পাঁচ ধরনের রিট

    বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে বিভিন্ন ধরনের রিটের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রচলিতভাবে এগুলো পাঁচ ধরনের রিট হিসেবে পরিচিত।

    হেবিয়াস করপাস: কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক করা হলে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে এই রিট করা যায়।

    ম্যান্ডামাস: কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী যে দায়িত্ব পালনে বাধ্য, তা পালন না করলে সেই দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা চেয়ে এ রিট করা যায়।

    সার্টিওরারি: কোনো নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল আইনগত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে আদেশ দিলে তা বাতিলের জন্য এই রিট করা যায়।

    প্রহিবিশন: কোনো নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল তার আইনগত এখতিয়ারের বাইরে কোনো কার্যক্রম শুরু করলে তা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে এই রিট করা যায়।

    কো-ওয়ারেন্টো: কোনো ব্যক্তি আইনগত যোগ্যতা ছাড়া সরকারি পদে অধিষ্ঠিত আছেন কি না, তা যাচাইয়ের জন্য এই রিট করা যায়।

    জনস্বার্থে রিটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিটের আইনগত ভিত্তি আরও সুস্পষ্ট হয়। ওই মামলার রায়ে বলা হয়, জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর কোনো ঘটনায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করতে পারেন।

    এরপর থেকে দেশে জনস্বার্থে রিটের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা পেয়েছে। গত কয়েক দশকে জনস্বার্থে করা বিভিন্ন রিট মামলায় হাইকোর্টের আদেশ ও রায়ের মাধ্যমে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, নিরাপদ খাদ্য এবং নাগরিক অধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    রিটের মাধ্যমে দেশের নদ-নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, নদী দখলদার উচ্ছেদ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ এবং পাহাড় কাটা রোধে বিভিন্ন নির্দেশনাও এসেছে।

    এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও রিট মামলা ভূমিকা রেখেছে। অনেক ক্ষেত্রে একজনের করা জনস্বার্থের রিটের রায় বা আদেশের সুফল বৃহত্তর জনগোষ্ঠী পেয়েছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন