তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে

চব্বিশের অর্জিত বিপ্লবকে বাঁচাতে তরুণদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকার যেন এটির ব্যবস্থা করে সে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই বিপ্লবের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম।
মাহমুদুর রহমান বলেন, বিপ্লবের জন্য থ্রেট দুটি দিক থেকে আসে। একটি অভ্যন্তরীণ অন্যটি বহিরাগত। একটা রাষ্ট্রের ইমিডিয়েট থ্রেট তার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে আসে। এই এক্সটার্নাল থ্রেট মোকাবেলা করতে গিয়ে আমাদের স্মরণে রাখতে হবে সামরিক দিক দিয়ে আমরা শক্তিশালী নই। আর আমাদের চারপাশে ঘিরে থাকা দুটি রাষ্ট্রই শক্তিশালী।
এর মধ্যে ভারত শুধু শক্তিশালীই নয়, একটা অ্যাটমিক পাওয়ার স্টেট। তাই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে আমাদের তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। কারণ আমাদের তরুণেরা দেখিয়েছে, তারা বুলেটকে ভয় পায় না। এটাই যদি আমাদের তারুণ্যের সাহস হয় এবং সেই তরুণদের যদি আমরা মিলিটারি ট্রেনিং দিতে পারি, তাহলে এমন শক্তি নাই যারা ১৮ কোটি মুসলমানের দেশকে পদানত করতে পারে। প্রশিক্ষিত তরুণ সমাজই সেই এক্সটার্নাল থ্রেটকে মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আয়ু আর হয়তো মাত্র কয়েক মাস। এই স্বল্প সময়ে তাদের পক্ষে কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এরপরে পাঁচ বছরের জন্যে নির্বাচিত যে সরকার আসবে সেই সরকারের প্রতি আমার পরামর্শ ও আহ্বান, তারা যেন তরুণদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। বিপদের সময় তারুণ্যের প্রশিক্ষিত শক্তিই হবে আমাদের প্রতিরক্ষা।
মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, বিপ্লবের অভ্যন্তরীণ থ্রেট এর বিষয়েও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের সমাজ কিংবা রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনে যে ফ্যাসিবাদের দালাল এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের দালালদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে, তারা বিপ্লবকে ব্যর্থ করতে চাইবে। তাই তাদেরকে খুঁজে বের করে তাদের চিহ্নিত করা আমাদের কর্তব্য।
এদিকে বেলা সাড়ে ১০ টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক প্রদক্ষিণ করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া, এক মিনিট নিরবতা পালন ও জুলাই বিপ্লবের উপর নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।