শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মোহাম্মদপুরে কোটি টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৬ কালকিনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ভোলার অতিরিক্ত জেলা জজের বিরুদ্ধে বিচারিক অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহে ৩৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১,৪৮৪ ডেঙ্গু মোকাবিলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের এগিয়ে আসার আহ্বান বরফ গলনে বদলাচ্ছে পৃথিবীর আকৃতি, মেরু উঠছে—বিষুবীয় ভূমি নামছে পশ্চিম তীরে প্রেস টিভির নারী সাংবাদিককে আটকের অভিযোগ গুলশান-বনানীর লেক দূষণ বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেবে সরকার হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৪৬
  • গোপালগঞ্জ কারাগারে ‘ক্ষমতার ছায়া’, তানিয়া জামানকে ঘিরে বিতর্ক জোরালো

    গোপালগঞ্জ কারাগারে ‘ক্ষমতার ছায়া’, তানিয়া জামানকে ঘিরে বিতর্ক জোরালো
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জেলার তানিয়া জামান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করছেন।

    তানিয়ার চাকরিজীবনের শুরু থেকেই রাজনৈতিক সংযোগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ২০১১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ওয়াহিদা আক্তারের সুপারিশে তিনি ডেপুটি জেলার হিসেবে নিয়োগ পান বলে জানা গেছে। ওয়াহিদা আক্তার তানিয়ার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়—এটি তৎকালেও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল এবং বর্তমানে নতুন করে তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

    কারা বিধিমালার পরিপন্থীভাবে কিছু বন্দিকে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া, বাইরের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়া এবং অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তানিয়া জামানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রমতে, কারাগারে বিশেষ কিছু রাজনৈতিক বন্দির জন্য ভিন্ন আচরণ করা হয়, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি একটি ‘রাজনৈতিক যোগাযোগ কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে তানিয়াকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এপিএস হাফিজুর রহমান লিকুর সঙ্গে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে দেখা যায়। একই ফ্রেমে রয়েছেন ওয়াহিদা আক্তারও। এই ছবি ঘিরে বিতর্ক ছড়ালেও তানিয়া জামান বিষয়টিকে ‘পারিবারিক সম্পর্ক’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে রাজনৈতিক রঙ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    সম্প্রতি গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে সংঘটিত একটি সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রেও জেলার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনায় কারা অভ্যন্তর থেকেই বাহিরের রাজনৈতিক সংযোগে সহায়তা করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি কারা প্রশাসনে নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কারা বিভাগে প্রায় ৯০% নিয়োগ ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক সুপারিশের প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। মেধা ও অভিজ্ঞতার বদলে প্রভাবশালী যোগাযোগই হয়ে উঠছে পদায়নের মূল ভিত্তি—এটি প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
    গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কারাগারের বর্তমান জেলার তানিয়া জামান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি রাজনৈতিক পক্ষের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে কারা প্রশাসনের নিয়মনীতি ও প্রোটোকল উপেক্ষা করে কাজ পরিচালনা করছেন।

    স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কারাগার ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত স্বচ্ছতার জন্য উদ্বেগজনক।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, “কারা প্রশাসনে দলীয় প্রভাবের অনুপ্রবেশ গোটা আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হতে পারে।”

    তারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছেন:
    কারা বিভাগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে
    নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে
    নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে তানিয়া জামানসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই করতে হবে

    সব অভিযোগ অস্বীকার করে তানিয়া জামান বলেন, “আমি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই চাকরিতে যোগ দিয়েছি। আমার আত্মীয়স্বজন কারো পরিচয় কাজে লাগিয়ে চাকরি পাইনি।” ভাইরাল হওয়া ছবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের ছবি। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “আমি সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। কারো ষড়যন্ত্রের শিকার হলে আমি আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।”

    সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—কারা বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যদি রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার চলতে থাকে, তাহলে পুরো বিচার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়বে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন