উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির মাধ্যমে জাতীয় জলবায়ু কর্মপরিকল্পনায় সহায়তার জন্য নতুন গাইডবুক প্রকাশ

এই সপ্তাহে জার্মানির বন শহরে অনুষ্ঠিত জুন ইউএন ক্লাইমেট মিটিংস-এ জাতীয় জলবায়ু কর্মপরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির মাধ্যমে সহায়তা প্রদানে একটি নতুন গাইডবুক উন্মোচন করা হয়েছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হবে।
ইউএনএফসিসিসি-এর টেকনোলজি এক্সিকিউটিভ কমিটি (টেক), ইউনাইটেড নেশনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইউএনআইডিও) এবং ইউনেপ কোপেনহেগেন ক্লাইমেট সেন্টার (ইউনেপ-সিসিসি)-এর যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুতকৃত এই গাইডবুকটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি সনাক্তকরণ, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নের জন্য একটি ব্যবহারিক ও হালনাগাদ সহায়ক উপকরণ হিসেবে কাজ করবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে জলবায়ু লক্ষ্যে অগ্রগতি
ইউএন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর মিন্স অব ইমপ্লিমেন্টেশন ডিরেক্টর সোফি ডি কনিনক বলেন- “নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত এই টেকনোলজি নিডস এসেসমেণ্ট গাইডবুকটি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী শক্তি খাত রূপান্তরে সহায়তা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।”
বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের সবচেয়ে বড় উৎস হলো জ্বালানি খাত। তাই শূন্য বা স্বল্প-নির্গমন প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারই জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি।
দেশগুলোর জন্য বাস্তবধর্মী সহায়তা
ইউনেপ-সিসিসি-এর গ্লোবাল টিএনএ প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সারা ট্রেয়ারাপ বলেন- “অনেক দেশ এখন ব্যবহারিক টুলস চাচ্ছে, যাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা যায়। এই গাইডবুকটি সময়োপযোগীভাবে সেই চাহিদা পূরণে প্রস্তুত হয়েছে।”
টিএনএ বা টেকনোলজি নিডস এসেসমেন্ট হলো ইউএনএফসিসিসি-এর অধীন একটি পুরনো এবং কার্যকর প্রক্রিয়া, যা দেশগুলোকে তাদের জলবায়ু প্রযুক্তি প্রয়োজন চিহ্নিত ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি টেকনোলজি একশন প্ল্যান (ট্যাপ) অনেক দেশ ইতোমধ্যে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
গাইডবুকের মূল বিষয়বস্তু
এই নতুন গাইডবুকে রয়েছে- নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিভিন্ন প্রযুক্তির তালিকা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা ও খরচ বিশ্লেষণ, নির্গমন হ্রাসে সম্ভাব্যতা ও নেট-জিরো অ্যালাইনমেন্ট, বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা, জলবায়ু সহনশীলতা ও ন্যায্য উত্তরণ বিষয়ক দিকনির্দেশনা।
টেক-এর চেয়ারম্যান ডায়েট্রাম ওপেল্ট বলেন- “এই গাইডবুকের মাধ্যমে আমরা দেশগুলোকে তাদের জ্বালানি রূপান্তর পরিকল্পনাকে প্রযুক্তিগতভাবে দৃঢ়, বিনিয়োগ-যোগ্য এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই করে গড়ে তুলতে সহায়তা করতে চাই। এটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শক্তি রূপান্তরের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
আন্তর্জাতিক সংলাপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা
গাইডবুকটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় ইউএন ক্লাইমেট চেঞ্জ, টেক, ইউনিডো এবং ইউনেপ-সিসিসি-এর একটি যৌথ সাইড ইভেন্টে।
উক্ত আয়োজনে লাইবেরিয়া ও ব্রাজিলসহ টিএনএ কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং ইরেনা ও ইউনিডো-র পক্ষ থেকেও অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হয়।
আলোচনায় উঠে আসে যে, ফিনান্স, সক্ষমতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের সমন্বিত সহায়তা নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির বাস্তবায়নের জন্য অপরিহার্য।
ইউনিডো-এর ক্লাইমেট টেকনোলজি ইনোভেশন বিভাগের প্রধান এলিওনোরা গাত্তি বলেন- “এই গাইডবুক শুধু প্রযুক্তি নির্বাচনের রোডম্যাপ নয়, বরং এটি সামাজিক ন্যায্যতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং স্থানীয় ক্ষমতায়নের প্রতিফলন ঘটানোর জন্য একটি কার্যকর টুল।”
এই গাইডবুকের প্রকাশের সময়ই শুরু হয়েছে টিএনএ গ্লোবাল প্রকল্পের পঞ্চম পর্যায় (ফেজ ভি), যাতে ১৭টি দেশ অংশ নিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইউনেপ ও ইউনেপ-সিসিসি, এবং অর্থায়ন করছে গ্লোবাল এনভাইরোনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)। এটি নিশ্চিত করছে যে, উন্নয়নশীল দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে তাদের জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে পারছে প্রযুক্তি, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের সমন্বয়ে।